Home চট্টগ্রাম দম ফেলার ফুরসৎ নেই চট্টগ্রামের কামারদের

দম ফেলার ফুরসৎ নেই চট্টগ্রামের কামারদের

লোহার বাজারে আগুন, কপালে চিন্তার ভাঁজ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। আর এই কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শহরের কামারশালাগুলোতে শুরু হয়েছে চিরচেনা ব্যস্ততা। নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, রেয়াজুদ্দিন বাজার, আতুরার ডিপো এবং দেওয়ানহাট এলাকার কামারশালাগুলো এখন দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা টুংটাং শব্দে মুখর। কামারদের যেন এখন দম ফেলারও ফুরসৎ নেই।
কোরবানির পশু জবাই এবং চামড়া ছাড়ানোর জন্য অপরিহার্য সরঞ্জাম যেমন— দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও ছড়ো তৈরি এবং পুরোনোগুলো শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। জলন্ত কয়লার লাল আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটার শব্দই এখন এই পাড়াগুলোর প্রধান পরিচয়। অনেক দোকানেই গভীর রাত, এমনকি ভোর পর্যন্ত কারিগরদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখা যাচ্ছে।
ব্যস্ততা বাড়লেও কামারশালার মালিক ও কারিগরদের মনে কিন্তু স্বস্তি নেই। এর মূল কারণ কাঁচামাল অর্থাৎ লোহা এবং কয়লার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর স্প্রিং লোহা, সাধারণ লোহা এবং কয়লার দাম প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের প্রবীণ কামার কারিগর সুনীল কর্মকার তাঁর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “লোহা আর কয়লার দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে আমাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে লোহা কিনতাম কম দামে, এখন তা কিনতে হচ্ছে চড়া মূল্যে। কয়লার বস্তার দামও আকাশছোঁয়া। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে সেই অনুপাতে দাম চাইলে তারা নিতে চান না। তারা মনে করেন আমরা বেশি লাভ করছি, কিন্তু আমাদের খাটুনি আর খরচের হিসাব কেউ দেখছে না।”
আরেক তরুণ কারিগর মো. রুবেল বলেন, “সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। এই কোরবানি ঈদের কয়টা দিনই আমাদের মূল আয়ের উৎস। কিন্তু এবার লোহার দাম বাড়ার কারণে মানুষ নতুন জিনিস কম কিনছে। বেশিরভাগ মানুষ পুরানো দা-ছুরি শান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন একটা চাপাতি বা ভালো ছুরি বানাতে যে খরচ পড়ছে, সাধারণ ক্রেতারা তা শুনেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দিন-রাত খাটুনির মজুরি ওঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে আধুনিক শান দেওয়ার মেশিন বা আমদানিকৃত বিদেশি রেডিমেড ছুরির দাপট বাড়লেও, কোরবানির ঈদে দেশি কামারদের হাতে তৈরি টেকসই সরঞ্জামের চাহিদা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তবে কামারদের দাবি, যদি সরকারিভাবে তাদের কোনো ঋণ সুবিধা বা কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেওয়া হতো, তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা অনেক সহজ হতো।
সব প্রতিকূলতা, ক্লান্তি আর আর্থিক অনিশ্চয়তা একপাশে সরিয়ে রেখে আপাতত চট্টগ্রামের কামাররা ব্যস্ত ঈদুল আজহার এই বিশেষ মৌসুমকে সফল করতে। তাদের হাতের নিখুঁত ছোঁয়ায় তৈরি ধারালো সরঞ্জামগুলোই আগামী ঈদের দিন পশুর হাটের পরবর্তী মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।
 আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন