Home Second Lead আনোয়ারায়  চীনা শিল্পাঞ্চল: খুলছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের দুয়ার

আনোয়ারায়  চীনা শিল্পাঞ্চল: খুলছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের দুয়ার

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আনোয়ারা উপজেলায় স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে বহু প্রতীক্ষিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্প।  মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই অনুমোদনকে দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা মিলবে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অগ্রাধিকারমূলক ক্রেতা ঋণ (পিবিসি) সুবিধার আওতায়। বাকি ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা জোগাবে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে অঙ্গীকার ইশতেহারে ছিল, এই প্রকল্প তারই প্রতিফলন।
বেজা নিশ্চিত করেছে যে, প্রকল্পের জন্য ৭৮৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ ইতিমধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন’ (সিআরবিসি)-কে নতুন ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগের পর চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। চুক্তি সই হলেই শুরু হবে মূল অবকাঠামোর কাজ।
এই প্রকল্পের আওতায় ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু, ১,১৮১ মিটার ফোর-লেন প্রধান সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন হ্যান্ডলিং ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীরসহ আধুনিক সব লজিস্টিক সুবিধা গড়ে তোলা হবে। বস্ত্র, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতে এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্ছ্বসিত আনোয়ারার স্থানীয় বাসিন্দারা:
একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদনের খবর আনোয়ারায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে কাজ শুরু হওয়ার ঘোষণায় স্থানীয়রা অর্থনৈতিক ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন।
আনোয়ারার গহিরা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, “টানেল হওয়ার পর থেকেই আমরা আশায় ছিলাম এই এলাকায় বড় কিছু হবে। মাঝখানে চীনা জোনের কাজ বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আজ একনেকে পাস হওয়ার খবর শুনে খুব ভালো লাগছে। এখানে কলকারখানা হলে আমাদের এলাকার ছেলেদের আর চাকরি বা ব্যবসার জন্য বাইরে ঘুরতে হবে না। এলাকার পুরো চেহারাটাই বদলে যাবে।”
স্থানীয় যুবনেতা ও সমাজকর্মী সাহাব উদ্দিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আনোয়ারায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে— এটা আমাদের জন্য বিশাল ব্যাপার। শিল্প জোনটি চালু হলে শুধু কলকারখানা নয়, এর আশপাশে আবাসন, দোকানপাট ও পরিবহনের মতো শত শত আনুষঙ্গিক ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। আমরা চাই দ্রুত ডেভেলপারদের সাথে চুক্তি শেষ করে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হোক। স্থানীয় বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে এই শিল্প অঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”