আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের মূল্যে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি আকস্মিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই এর বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ২.৩ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭৮.২৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুশিয়ারির কারণে গতকাল বুধবার তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১ ডলারে উঠেছিল। তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাময়িক প্রভাব কাটিয়ে আজ আবারও বড় পতনের ধারায় ফিরেছে তেলের বাজার।
ব্রেন্ট ক্রুডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারেও মন্দাভাব দেখা গেছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। আজ সকালে সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে জুলাই মাসে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১.২৬ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুড বর্তমানে ৭৫.৪২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের বৈরি দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির ফলে বাজারে সরবরাহের সংকট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়াতেই মূল্যহ্রাসের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের দাম কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে হরমোজ প্রণালী দ্রুত সচল হওয়ার সম্ভাবনা। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী তেল আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, এই প্রণালীটি খুব দ্রুতই বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই আশাবাদ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যা সামগ্রিকভাবে তেলের দামকে দ্রুত নিম্নমুখী করতে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।