Home Third Lead নেইমারের জন্য কেঁদেছিল যে মন, সে নিজেই এখন না ফেরার দেশে

নেইমারের জন্য কেঁদেছিল যে মন, সে নিজেই এখন না ফেরার দেশে

জুয়েল রানা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তখনো চারদিকে ভোরের আলো ফোটেনি। প্রিয় দল ব্রাজিলের জার্সি গায়ে টেলিভিশনের পর্দায় বুঁদ হয়ে ছিলেন ২৫ বছরের টগবগে তরুণ জুয়েল রানা। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। বুকে বিঁধেছিল এক চরম হতাশার কাঁটা। মনের ভেতর জমে থাকা সেই কষ্টটুকু উজাড় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন— ‘দল করি হারবে, জিতবে, কিন্তু নেইমারের জন্য হারটা মানতে পারছি না’
প্রিয় ফুটবলারের জন্য বুকফাটা সেই আকুতি জড়ানো স্ট্যাটাসটিই যে তার জীবনের শেষ বার্তা হয়ে থাকবে, তা কে জানতো? নেইমারের পরাজয়ের কষ্টের রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জুয়েল নিজেই চিরতরে হারিয়ে গেলেন জীবনের ওপারে, না ফেরার এক অচিন দেশে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাঁশখালীর দারোগা বাজার এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে যায় এই তরুণের জীবনপ্রদীপ। নিহত জুয়েল রানা চাম্বল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরিত্যা পাড়া এলাকার শামশুল ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালবেলা চাম্বল ইউনিয়নের সিকদার দোকান এলাকা থেকে বাঁশখালী উপজেলা সদরে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন জুয়েল। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি যখন দারোগা বাজার ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌঁছায়, ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড ধাক্কায় পিচঢালা সড়কে ছিটকে পড়েন জুয়েল। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যে পায়ে বল ছুটিয়ে মাঠ মাতিয়ে বেড়াতেন জুয়েল, সেই পা দুটি আজ নিথর। জুয়েলের অকাল প্রয়াণে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার ফুটবল খেলার সাথি বাপ্পারাজ তালুকদার গুমরে কেঁদে উঠে বলেন, “জুয়েল খুব ভালো ফুটবল খেলতো। এই তো কয়েকদিন আগেই চাম্বল মাঠে ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিল। আজ ও নেই, এই নির্মম সত্যটা মেনে নিতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
দুর্ঘটনার পর জুয়েলের বাড়িতে এখন শুধু কান্নার রোল। তার ছোট ভাই মো. আরাফাত অশ্রুভেজা চোখে জানান, “অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ভাইয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। আমাদের পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।”
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যে বুক জুড়ে ছিল ফুটবলের উন্মাদনা, প্রিয় দলের জন্য নিখাদ ভালোবাসা— সেই বুক আজ নিস্পন্দ। নেইমারের জন্য ব্যথিত হওয়া জুয়েল এখন সব হার-জিতের ঊর্ধ্বে, এক চিরশান্তির চাদরে ঘুমিয়ে।