Home আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত: ৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি জার্মানিতে

জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত: ৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি জার্মানিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তীব্র তাপদাহের কারণে চলতি বছর এ পর্যন্ত জার্মানিতে আনুমানিক ৫,১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে জুনের শেষ সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আরকেআই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ২৮ জুনের তীব্র তাপদাহের সপ্তাহটিতেই রেকর্ড ৪,৩১০ জন মানুষ মারা গেছেন। এই সময়ে জার্মানির ৪৬টি আবহাওয়া স্টেশনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে রেকর্ড করা হয় এবং কোনো কোনো অঞ্চলে তা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ছিল জার্মানির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম জুন মাস।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে একটি বড় অংশই বয়স্ক নাগরিক। মোট প্রাণহানির মধ্যে প্রায় ৪,২৭০ জনের বয়স ৭৫ বছর বা তার বেশি ছিল। এছাড়া মৃতদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি, কারণ বয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে নারীদের অনুপাতই বেশি থাকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের পাশাপাশি মানুষের পূর্ববর্তী শারীরিক জটিলতাগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ায় এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়েছে।
শুধু জার্মানিই নয়, পুরো পশ্চিম ইউরোপ জুড়েই এবার রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, সামগ্রিকভাবে পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাস। জার্মানির পাশাপাশি ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসেও জুনের শেষ সপ্তাহের দাবদাহে আরও হাজার হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশটির হাসপাতাল এবং ওল্ড এজ হোমগুলোতে শীতলীকরণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনিং) বাড়ানোর জোর দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, পরিবেশবাদী দলগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের অপর্যাপ্ত নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের গতি না থামালে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের এই ‘নীরব ঘাতক’ দাবদাহ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।