Home অন্যান্য মহাকাশে খাদ্যের ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশি তরুণদের হাতছানি

মহাকাশে খাদ্যের ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশি তরুণদের হাতছানি

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক

চাঁদ, মঙ্গল কিংবা দূর মহাকাশের দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে নভোচারীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। মহাকাশে প্রতিকূল পরিবেশে টেকসই উপায়ে কীভাবে ও কী ধরনের উদ্ভিদ চাষ করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ করতে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা “স্পেস হার্ভেস্ট আইডিয়াথন”। জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জ্যাক্সা)-এর ‘স্পেস সিডস ফর এশিয়ান ফিউচার’ (SSAF) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই কার্যক্রমে বাংলাদেশে স্থানীয় আয়োজক ও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বিজ্ঞান শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম STEMX365

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাকাশ গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে গঠিত “কিবো-এবিসি” কাঠামোর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থিত জাপানের মডিউল পরীক্ষাগার “কিবো”-র ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মহাকাশ গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০১০-১১, ২০১৩ এবং ২০২০-২১ সালেও সফলভাবে SSAF কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল, যার সর্বশেষ পর্ব ছিল ‘এশিয়ান হার্ব ইন স্পেস’

প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি বিভাগে বিভক্ত—”হোয়াট টু গ্রো” (কী চাষ করা হবে) এবং “হাউ টু গ্রো” (কীভাবে চাষ করা হবে)

“হোয়াট টু গ্রো” বিভাগে এমন উদ্ভিদ নির্বাচন করতে হবে যা নভোচারীদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সীমিত স্থানে চাষযোগ্য এবং মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রি-হাইস্কুল’ এবং উচ্চমাধ্যমিক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘সিনিয়র’ বিভাগ। এই বিভাগে নিবন্ধন ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে ২০২৭ সালের মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক সমাপনী অধিবেশন

অন্যদিকে “হাউ টু গ্রো” বিভাগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে। মহাকাশযান, চাঁদ বা মঙ্গলের মাটিতে মাটির বিকল্প মাধ্যম, স্বয়ংক্রিয় সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম আলো, পুনর্ব্যবহার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে পারবেন উচ্চমাধ্যমিক থেকে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এই বিভাগে কেবল তাত্ত্বিক প্রস্তাব দিলেই চলবে না, পৃথিবীতে তার বাস্তব কার্যকারিতাও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। এ বিভাগের নিবন্ধন শেষ হবে ৩০ এপ্রিল ২০২৭ এবং চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ জুলাই ২০২৭। একই বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে এর আন্তর্জাতিক সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে

বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া প্রস্তাবগুলো দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সেরা প্রকল্পগুলো জ্যাক্সার কাছে সুপারিশ করা হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণ গবেষকেরা ইংরেজিতে আন্তর্জাতিক অধিবেশনে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা ও গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এমনকি সম্ভাবনাময় সেরা ধারণাগুলো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বাস্তব পরীক্ষার সুযোগও পেতে পারে

মহাকাশবিজ্ঞান, অ্যাস্ট্রোবায়োলজি এবং নিয়ন্ত্রিত কৃষি প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা পাওয়া যাবে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে (https://stemx365.org/)

নিত্যনতুন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার খবরাখবর জানতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখে জানান।