Home First Lead লবণবাহী ট্রাকের পানি: ভয়াবহ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

লবণবাহী ট্রাকের পানি: ভয়াবহ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লবণবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত নোনা পানি এখন নিয়মিত মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা ও মহেশখালী থেকে কাঁচা ও অপরিশোধিত লবণ পরিবহনের সময় মহাসড়কে অবিরত ঝরছে লবণাক্ত পানি। দীর্ঘ বহু বছর ধরে এই অপতৎপরতা চললেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া কিংবা চকরিয়া—কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ নয়, বরং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় শত কিলোমিটার মহাসড়ক জুড়েই চলছে এই রক্তক্ষয়ী অব্যবস্থাপনা।

ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে লবণ পরিবহনের সময় নিঃসৃত পানি পিচঢালা সড়কে পড়ে দ্রুত পিচের রাসায়নিক বন্ধন নষ্ট করে দেয়। রোদ উঠলে পানি শুকিয়ে রাস্তার ওপর লবণের একটি চর্বিযুক্ত সাদা আস্তরণ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি কিংবা কুয়াশার সামান্য আর্দ্রতা পেলেই সেই আস্তরণ সাবানের ফেনার মতো ভয়ানক পিচ্ছিল রূপ ধারণ করে। এ সময় জরুরি প্রয়োজনে ব্রেক কষলেই চাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে যানবাহন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা। ভারী পরিবহনও বাকগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পেরে খাদে পড়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া এলাকার নিয়মিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, লবণবাহী গাড়িগুলোর পেছনে চলা মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া। গাড়ি ঘোরানোর সময় বা ব্রেক চাপলেই চাকা স্কিড করে উল্টে যায়। মহাসড়কের কোনো একটি অংশে নয়, পটিয়া থেকে চকরিয়া পর্যন্ত পুরো পথেই এই আতঙ্কে থাকতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চালক-যাত্রী মরছে, অথচ কোনো স্থায়ী প্রতিকার নেই।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হওয়ায় কেবল সাময়িক চেকপোস্ট বসিয়ে বা জরিমানা করে এটি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বহুমুখী টেকসই উদ্যোগ। প্রথমত, লবণ প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে লবণ মাঠেই নির্দিষ্ট সময় শুকিয়ে পানি ঝরিয়ে তারপর ট্রাকে তোলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি লবণবাহী ট্রাকে নিচে ওয়াটারপ্রুফ ড্রিপ-ট্রে বা বিশেষ প্লাস্টিক ট্যাংক স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ফোটা ফোটা পানি সড়কে না পড়ে ভেতরে জমা থাকে। তৃতীয়ত, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের প্রবেশমুখে স্থায়ী ওজন স্কেল ও আধুনিক স্ক্যানিং পয়েন্ট স্থাপন করে পানি ঝরা গাড়িগুলোর যাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে আটকে দেওয়া এবং ভারী জরিমানার আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারির সঙ্গে সড়কের ওপর জমে থাকা লবণাক্ত স্তর নিয়মিত বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ধৌত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, অপরিকল্পিত ও অরক্ষিত অবস্থায় লবণ পরিবহন করে জনসাধারণের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। মহাসড়ক জুড়ে নজরদারি বাড়াতে আমরা তৎপর রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ অভিযান চালানো হবে এবং আইন অমান্যকারী পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নিয়মিত এমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও বিশ্লেষণ পেতে চোখ রাখুন businesstoday24.com-এ, আমাদের পেজটি ফলো করুন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে আপনার মতামত কমেন্টে জানান।