Home স্বাস্থ্য প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো

প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো

এনএইচএসে আসছে অ্যাবিরাটেরন

হেলথ ডেস্ক: ইংল্যান্ডে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হাজারো পুরুষের জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে যাচ্ছে। এনএইচএস ঘোষণা করেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জীবন বর্ধনকারী ওষুধ অ্যাবিরাটেরন (Abiraterone) রোগীদের জন্য সহজলভ্য হবে।

প্রথমবারের মতো যেসব রোগীর ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়ায়নি, তারাও এই চিকিৎসার আওতায় আসবেন। গত তিন মাসে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় দুই হাজার রোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রতিবছর আরও সাত হাজার নতুন রোগী এই ওষুধের সুবিধা পাবেন।

অ্যাবিরাটেরন শরীরে টেস্টোস্টেরনসহ ক্যান্সার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনকে বাধা দেয়। আগে এটি শুধু উন্নত পর্যায়ের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হতো, এখন কম খরচে জেনেরিক সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধে রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছয় বছর পর অ্যাবিরাটেরন গ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ জীবিত ছিলেন, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসায় এই হার ছিল ৭৭ শতাংশ। রোগের অগ্রগতি ঠেকানোর সময়সীমা দ্বিগুণ হয়েছে— ১৫ মাস থেকে বেড়ে ৩৩ মাস।

উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গবেষণা বলছে, পাঁচ বছরের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে আসে।

স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, “প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষদের জন্য এটি হবে এক জীবনরক্ষাকারী সুযোগ।” তিনি নিজের ক্যান্সার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সময়মতো চিকিৎসা ও আধুনিক ওষুধ তার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

এনএইচএস জানিয়েছে, ওষুধের দাম কমিয়ে আনার ফলে সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ফর ক্যান্সার প্রফেসর পিটার জনসন বলেন, “এটি হাজারো রোগীর জন্য জীবন পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত।”

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ৬৩ হাজার পুরুষ প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার জনের মৃত্যু ঘটে। গত পাঁচ বছরে এনএইচএস আরও কয়েকটি লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ চালু করেছে, যেমন এনজালুটামাইড, ডারোলুটামাইড, রেলুগোলিক্স ও অ্যাপালুটামাইড।

অ্যাবিরাটেরন সহজলভ্য হওয়ার ফলে হাজারো পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসায় এক বড় অগ্রগতি, যা রোগীদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।