Home Second Lead আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ব্যাপক বিমান হামলা

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ব্যাপক বিমান হামলা

নারী ও শিশুসহ বহু হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যরাতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া একাধিক প্রাণঘাতী হামলার জবাবে তারা এই সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভুল অভিযান পরিচালনা করেছে।
হামলার বিবরণ ও লক্ষ্যবস্তু:
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সামরিক সূত্র অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিকা প্রদেশের অন্তত সাতটি স্থানে এই হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে পাকতিকার বারমাল জেলায় একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নানগারহারের বিহুসুদ, খোয়ানি ও ঘানি খিল জেলায় বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) বা ফিতনা আল খাওয়ারেজ এবং আইএস-কেপির (ISKP) সাতটি গোপন আস্তানা ও ট্রেনিং ক্যাম্প।
আফগান সূত্র এবং বার্তা সংস্থা এএফপি-র তথ্যমতে, নানগারহারের বিহুসুদ জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের ১৭ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ও কিশোর। সব মিলিয়ে হতাহতের সংখ্যা কয়েক ডজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন এই হামলা?
পাকিস্তান সরকার এই বিমান হামলাকে একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলা, বাজাউর এবং বান্নু জেলায় সেনাবাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা আফগান ভূখণ্ডে হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যে এসব হামলার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীরা আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। ইসলামাবাদ আরও অভিযোগ করেছে যে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আফগান তালেবান সরকার তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের দায়ী করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বর্বর অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন যে, পাকিস্তানি জেনারেলরা নিজেদের দেশের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে সাধারণ নিরপরাধ মানুষের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। কাবুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করতে দেয় না এবং পাকিস্তানের এই আগ্রাসন দুই দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
এই হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত অর্থাৎ ডুরান্ড লাইন বরাবর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বছরের অক্টোবর মাসেও সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০ জন নিহত হওয়ার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছিল, যা এই বিমান হামলার ফলে আবারও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিয়মিত খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।