Home স্বাস্থ্য ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের নতুন ‘মহৌষধ’ বাঁশ কোড়ল

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের নতুন ‘মহৌষধ’ বাঁশ কোড়ল

 বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এই সুপারফুডের বাজার

হেলথ ডেস্ক: দীর্ঘকাল ধরে কেবল পাহাড়ি জনপদে জনপ্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিত থাকলেও, এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক চমক হয়ে আবির্ভূত হয়েছে ‘বাঁশ কোড়ল’ (Bamboo Shoots)। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে এর অবিশ্বাস্য কার্যকারিতার কারণে আন্তর্জাতিক গবেষকরা একে নতুন প্রজন্মের ‘সুপারফুড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের গবেষকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাঁশ কোড়লের এই বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি (ARU)-এর পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক লি স্মিথের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই প্রথম বাঁশ কোড়ল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘অ্যাকাডেমিক রিভিউ’ সম্পন্ন করেন। তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স ডেইলি’ এবং ‘ইউরেকঅ্যালার্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁশ কোড়লে থাকা উপাদানগুলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।
কেন এটি সুপারফুড? গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফল:
অধ্যাপক লি স্মিথের গবেষণায় বাঁশ কোড়লের তিনটি প্রধান গুণাগুণ উঠে এসেছে:
১. মেটাবলিক হেলথ ও ডায়াবেটিস: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ শরীরের গ্লুকোজ শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বা গ্লাইসেমিক কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। ২. হৃদরোগ প্রতিরোধ: এতে থাকা বিশেষ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটোস্টেরল রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে শরীরের ‘লিপিড প্রোফাইল’ উন্নত করে। ফলে ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির ঝুঁকি কমে যায়। ৩. উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রচুর পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি লো-ক্যালোরি খাবার হওয়ায় ওজন কমাতে ইচ্ছুকদের জন্য আদর্শ।
রফতানি বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে ‘ফাংশনাল ফুড’ হিসেবে বাঁশ কোড়লের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে এর ক্যানড (Canned) এবং পাউডার ফর্মের বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর বাঁশ কোড়ল উৎপাদিত হয়। সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারলে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি লাভজনক রফতানি খাত হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সাবধানতা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
তবে গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কাঁচা বাঁশ কোড়লে ‘সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড’ নামক একটি উপাদান থাকে যা কিছুটা বিষাক্ত হতে পারে। তাই এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই সঠিকভাবে সিদ্ধ (Pre-boiling) করে নিতে হবে। সঠিক উপায়ে রান্না করলে এর শতভাগ পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাঁশ কোড়ল অন্তর্ভুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতা এড়ানোর একটি প্রাকৃতিক ও সাশ্রয়ী উপায়।