Home রেমিটেন্স যোদ্ধাদের খবর মরুভূমির তপ্ত বালুতে মিশে গেল রংমালার স্বপ্ন

মরুভূমির তপ্ত বালুতে মিশে গেল রংমালার স্বপ্ন

রংমালা
নিথর দেহ ফেরার অপেক্ষায় বৃদ্ধ বাবা-মা
বিজনেসটুডে২৪  প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: সূদূর মরুভূমির দেশে সোনালী স্বপ্নের সন্ধানে গিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার মেয়ে রংমালা (২৭)। লক্ষ্য ছিল একটাই—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আর জীবনের রূঢ় দারিদ্র্যকে জয় করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিলপাড়া গ্রামে বিষাদসিন্ধু হয়ে আছড়ে পড়েছে।
বিদেশের মাটিতে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয়ে এখন নিথর দেহে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
স্বপ্নের অপমৃত্যু
নয় বছর আগে স্বামী জিয়ারুলকে ক্যান্সারের কাছে হারান রংমালা। বৈধব্যের বিষাদ আর অভাবের তাড়নায় মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বুক বেঁধেছিলেন অজানাকে জয় করতে। আট বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার সেই জীর্ণ ঘরে যে সচ্ছলতা ফেরার কথা ছিল, তা এখন কান্নার রোলে ঢাকা পড়েছে।
সেই রহস্যঘেরা মুহূর্ত
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রংমালা যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই গৃহকর্তা দম্পতি সম্প্রতি কুয়েত ভ্রমণে যান। কয়েকদিন ধরে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে অস্থির হয়ে ওঠেন দেশে থাকা বাবা রফি গাজী। শেষমেশ গৃহকর্তার স্বজনরা বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বেরিয়ে আসে এক নিদারুণ দৃশ্য। ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ উদ্ধার করে রংমালার প্রাণহীন দেহ।
বিদেশের নির্জন ঘরে ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে? এটি কি নিছকই কোনো দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অন্ধকার গল্প—সেই উত্তর এখন অজানার গর্ভে।
এক জোড়া বৃদ্ধ চোখের আকুতি
গত পাঁচ দিন ধরে রংমালার গ্রাম লক্ষ্মীপুর মিলপাড়ায় বইছে শোকের মাতম। মেয়ের মরদেহের প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। রফি গাজীর আর্তনাদ যেন আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করছে:

“আমার মেয়েটা গেল ঘর হাসাতে, এখন সে ফিরবে লাশ হয়ে। অন্তত শেষবারের মতো মেয়ের মুখটা দেখতে চাই।”

সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি
অসহায় এই পরিবারটি এখন কেবল সরকারের মুখ চেয়ে বসে আছে। প্রিয় সন্তানের নিথর দেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
রংমালা হয়তো আর কোনোদিন তার গ্রামে ফিরে হাসিমুখে কথা বলবেন না, কিন্তু তার নিথর দেহটি অন্তত স্বদেশের মাটিতে ঠাঁই পাক—এই শেষ সান্ত্বনাটুকুই এখন চুয়াডাঙ্গাবাসীর চাওয়া।