আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতে স্বর্ণের বাজার যে আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছেছিল, মার্চ মাসের মাঝামাঝি এসে তাতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছিল (প্রতি আউন্স প্রায় $৫,৫৯৫)। সেখান থেকে ধাপে ধাপে কমতে কমতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম $৪,৭০০ থেকে $৪,৮০০ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম প্রায় $৭০০-$৮০০ ডলার পর্যন্ত কমেছে।
কেন এই দ্রুত নিম্নমুখী প্রবণতা?
বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক কারণ স্বর্ণের এই পতনের জন্য দায়ী:
- মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (Fed) কঠোর অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো ‘নন-ইল্ডিং’ অ্যাসেটের (যেখান থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না) আকর্ষণ কমে যায়।
- শক্তিশালী মার্কিন ডলার: বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান ১০% পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। স্বর্ণ যেহেতু ডলারে কেনাবেচা হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যা চাহিদাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও তেলের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি $১২০ ছাড়িয়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়ানোর অজুহাত পাচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
- বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলন (Profit Taking): রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা স্বর্ণ বিক্রি করে লভ্যাংশ তুলে নিচ্ছেন। একে বাজারে ‘টেকনিক্যাল কারেকশন’ বলা হয়।










