Home আন্তর্জাতিক জলদস্যুদের কবজায় এম টি ইউরেকা, ৭ মিলিয়ন ডলার দাবি

জলদস্যুদের কবজায় এম টি ইউরেকা, ৭ মিলিয়ন ডলার দাবি

শিপিং ডেস্ক: সোমালী জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া তেলের ট্যাঙ্কার এম/টি ইউরেকা (M/T Eureka)-এর ১২ জন নাবিককে মুক্তি দিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জলদস্যুরা জাহাজ ও ক্রুদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪ কোটি টাকা ) মুক্তিপণ চেয়েছে।

ছিনতাই ও বর্তমান অবস্থান:

গত ২ মে ইয়েমেন উপকূল থেকে এই তেলের ট্যাঙ্কারটি ছিনতাই করে সোমালী জলদস্যুরা। বর্তমানে জাহাজটি সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের গারাকাড অথবা ইইল বন্দরের কাছাকাছি গভীর সমুদ্রে নোঙর করে রাখা হয়েছে। জলদস্যুদের একটি ভারী সশস্ত্র দল জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে অবস্থান করছে।

নাবিকদের অবস্থা ও জলদস্যুদের কৌশল:

এম/টি ইউরেকাতে মোট ১২ জন ক্রু রয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জন মিশরীয় এবং ৪ জন ভারতীয় নাগরিক। মুক্তিপণ আদায়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জলদস্যুরা এখন এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা বন্দি নাবিকদের দিয়ে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে। মূলত পরিবারের সদস্যদের ওপর আবেগপ্রবণ চাপ তৈরি করে মালিকপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত টাকা দিতে বাধ্য করাই জলদস্যুদের প্রধান লক্ষ্য। নাবিকদের এই আকুতি ও ভিডিও বার্তা পরিবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও গভীর সমুদ্রের পরিস্থিতি:

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে এম/টি ইউরেকা ছাড়াও আরও অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সোমালী জলদস্যুদের কবজায় রয়েছে। জলদস্যুরা ছোট মাছ ধরার নৌকা বা ‘ধো’ ছিনতাই করে সেগুলোকে ‘মাদারশিপ’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে গভীর সমুদ্রে জাহাজ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগরীয় এলাকায় জলদস্যুতার ঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (MSCHOA) এই রুট দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মোগাদিশু থেকে হাফুন পর্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com