Home স্বাস্থ্য  ‘সেরুলাইড’ বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় নেসলের শিশুখাদ্য প্রত্যাহার সিঙ্গাপুরে

 ‘সেরুলাইড’ বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় নেসলের শিশুখাদ্য প্রত্যাহার সিঙ্গাপুরে

আন্তর্জািতিক ডেস্ক: দুগ্ধজাত পণ্যের কাঁচামালে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির আশঙ্কায় সিঙ্গাপুরে নেসলে (Nestlé) এবং ডুমেক্স (Dumex) ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচের শিশুখাদ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি (SFA) জানিয়েছে, এসব পণ্যে সেরুলাইড (Cereulide) নামক এক ধরনের টক্সিন বা বিষক্রিয়া থাকতে পারে।
সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি ও সংক্রামক ব্যাধি সংস্থা (CDA) বিশেষ করে দুটি পণ্যের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে:
Nestlé NAN HA 1 SupremePro (৮০০ গ্রাম): ব্যাচ নম্বর ৫২৩৪০০১৭সি৩ (সুইজারল্যান্ডে উৎপাদিত)।
Dumex Dulac 1 (৮০০ গ্রাম): ব্যাচ নম্বর ১০১৫৭০৭৭৮সি (থাইল্যান্ডে উৎপাদিত)।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পণ্যগুলোতে ব্যবহৃত কাঁচামাল একই উৎস থেকে আসায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে এক শিশুর অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে, তবে সে এখন সুস্থ।
সেরুলাইড বিষক্রিয়া কী?
সেরুলাইড হলো ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন একটি বিষ। এটি খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. চ্যান সি মিন সতর্ক করেছেন যে, শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বমি হলে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে এটি লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্কের মতো অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব
কেবল সিঙ্গাপুর নয়, নেসলের এই পণ্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। গত ৫ জানুয়ারি ইউরোপে প্রথম এই সমস্যার কথা জানা যায়। বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এই স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভিয়েতনামেও নেসলে তাদের ‘ন্যান’ (NAN) ব্র্যান্ডের ১৭টি ব্যাচ বাজার থেকে তুলে নিয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ
১. তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিজের কেনা পণ্যের ব্যাচ নম্বর যাচাই করুন।
২. আক্রান্ত ব্যাচের দুধ শিশুকে খাওয়ানো অবিলম্বে বন্ধ করুন।
৩. যদি শিশু ইতিমধ্যে এই দুধ খেয়ে থাকে এবং তার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি জানিয়েছে, আক্রান্ত পণ্যগুলো দেশের মোট শিশুখাদ্য সরবরাহের ৫ শতাংশের কম, তাই বাজারে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।