Home Second Lead সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ ‘আত্মঘাতী’: বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ ‘আত্মঘাতী’: বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সুতা আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তৈরি পোশাক শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য ‘মারাত্মক বিপর্যয়কর’ ও ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যায়িত করেছে দেশের পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ।
আজ সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারের মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটে পোশাক খাত যখন ত্রিমুখী চাপে রয়েছে, তখন সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তিনি দাবি করেন, ট্যারিফ কমিশনের সাথে আলোচনা চলাকালীন পোশাক শিল্পের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘সেফগার্ড চুক্তি’র লঙ্ঘন।
রপ্তানি আয়ে ধসের আশঙ্কা: বিজিএমইএ জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। এই খাতের প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হলো বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি। এই সুবিধা প্রত্যাহার করলে সরাসরি রপ্তানি খাত ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানি ইতোমধ্যে ২.৬৩ শতাংশ কমেছে, আর শুধু ডিসেম্বরেই কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ।
মূল্য বৈষম্য ও সক্ষমতার অভাব: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ‘৩০ কার্ডেড’ সুতার দাম যেখানে ২.৫০ থেকে ২.৬০ ডলার, সেখানে দেশীয় মিলগুলো ৩ ডলারে সুতা সরবরাহ করতে চাইছে। প্রতি কেজিতে এই ৪০ সেন্টের অতিরিক্ত খরচ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব করে তুলবে।
সেলিম রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোর অদক্ষতা ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয় আড়াল করতে কৃত্রিম সুরক্ষার মাধ্যমে একচেটিয়া বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে। অথচ এসব মিল এখনো পর্যাপ্ত বিশেষায়িত সুতা সরবরাহে সক্ষম নয়।
বিকল্প প্রস্তাব ও হুঁশিয়ারি :সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি অবিলম্বে এই শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “স্পিনিং মিলগুলোকে রক্ষা করতে হলে শুল্ক নয়, বরং সরাসরি নগদ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, কর ছাড় এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত ছয় মাস ধরে রপ্তানি নিম্নমুখী। এই অবস্থায় বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানি খাত বড় ধরনের হোঁচট খাবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ উভয় সংগঠনের উর্ধ্বতন পরিচালকবৃন্দ।