Home সারাদেশ ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা তেঁতুল গাছের মগডালে: অলৌকিক ঘটনা নাকি অবচেতন মনের খেলা?

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা তেঁতুল গাছের মগডালে: অলৌকিক ঘটনা নাকি অবচেতন মনের খেলা?

সংগৃহীত ছবি
নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এক অভাবনীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে সাজেদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধা নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে বাড়ির পাশের একটি বিশাল তেঁতুল গাছের মগডালে অবস্থান করতে দেখা যায়। প্রায় ৬০ বছর বয়সী ওই নারী কীভাবে এতো উঁচু গাছের মগডালে উঠলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে সাজেদা বেগমকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন যে, তিনি পুকুরপাড়ের একটি বড় তেঁতুল গাছের একদম ওপরের ডালে বসে ও শুয়ে আছেন।
খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযানে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বাধা আসলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে সাজেদা বেগম নিজেই গাছ থেকে নিচের পুকুরে লাফিয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সমসাময়িক অনুরূপ ঘটনা
এ ধরণের ঘটনা বাংলাদেশে এবং বিদেশে এর আগেও বেশ কয়েকবার শিরোনাম হয়েছে। কয়েক বছর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক বৃদ্ধকে একইভাবে তালগাছের ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল, যাকে স্থানীয়রা অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেছিলেন।
বাংলাদেশেও পিরোজপুর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে মানসিক ভারসাম্যহীন বা বিশেষ শারীরিক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের দুর্গম স্থানে বা গাছের চূড়ায় খুঁজে পাওয়ার নজির রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলোকে গ্রামীণ জনপদে ‘জিনের আছর’ বা অলৌকিক কিছু হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মতে, এ ধরণের ঘটনার পেছনে মূল কারণ হতে পারে স্লিপওয়াকিং (Sleepwalking) বা ডিলিরিয়াম (Delirium)। সাজেদা বেগমের ক্ষেত্রে এটি একটি সাময়িক মানসিক বিভ্রম বা ডিসোসিয়েটিভ ফুগ (Dissociative Fugue) হতে পারে। এই অবস্থায় একজন মানুষ নিজের অজান্তেই অত্যন্ত কঠিন বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ফেলতে পারেন, যা স্বাভাবিক অবস্থায় তার পক্ষে অসম্ভব।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা বার্ধক্যজনিত স্নায়বিক সমস্যার কারণে মানুষের অবচেতন মন শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে তারা গাছে চড়া বা দীর্ঘ পথ হাঁটার মতো কাজগুলো কোনো প্রকার সচেতন স্মৃতি ছাড়াই সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারস রোগের প্রভাবেও মানুষ অনেক সময় দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করে।
businesstoday24.com এর সাথে থাকুন। আমাদের এই প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।