বিনোদন ডেস্ক:ফওয়াদ খানের বহু প্রতীক্ষিত বলিউড কামব্যাক ছবি ‘আবির গুলাল’ পাকিস্তানে নির্ধারিত সময়েই মুক্তি পাচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য আবারও পিছিয়ে গেল মুক্তির তারিখ।
আগামী ২৯ আগস্ট পাকিস্তানে মুক্তি পাচ্ছে রোমান্টিক ড্রামা ধাঁচের এই ছবি। তবে বিশ্বব্যাপী ৭৫টি দেশে এক হাজারেরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ১২ সেপ্টেম্বর। এটি ছবিটির আন্তর্জাতিক মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের তৃতীয় ঘটনা। ভারতের সিনেমা হলে অবশ্য এখনও নিষিদ্ধ থাকছে ছবিটি, কারণ দেশটিতে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
প্রথমে ৯ মে মুক্তির কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে ২৯ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানের জন্য সেই তারিখ বহাল থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিবেশকরা জানিয়েছে, বিদেশে ছবিটি মুক্তি পাবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি।
ছবির মুক্তি নিয়ে এতোবার তারিখ পরিবর্তনের পেছনে যেমন প্রযোজনাগত কারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে। অল ইন্ডিয়ান সিনেমা ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA) এবং ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর চাপেও এ নীতি বহাল থাকে।
‘চলতি রহে জিন্দেগি’ খ্যাত পরিচালক আরতি এস বাগদির পরিচালনায় নির্মিত ‘আবির গুলাল’-এর প্রযোজনা করছে ইন্ডিয়ান স্টোরিজ, এ রিচার লেন্স ও আরজে পিকচার্স। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন বিবেক বি আগরওয়াল, অবন্তিকা হরি ও রাকেশ সিপ্পি।
ছবিতে ফওয়াদ খানকে দেখা যাবে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক শেফ চরিত্রে, যার বিপরীতে অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেত্রী বাণী কাপুর। আরও অভিনয় করেছেন লিসা হেইডেন, ঋদ্ধি ডোগরা, পরমিত শেঠি এবং প্রবীণ অভিনেত্রী ফরিদা জালাল।
আমিত ত্রিবেদীর সংগীতায়োজনে ছবিটির গানগুলো মুক্তির আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমে গানগুলোতে দর্শকের আগ্রহ ছবিটির জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রায় এক দশক পর বলিউডে ফওয়াদ খানের প্রত্যাবর্তন ঘটছে এই ছবির মাধ্যমে। ২০১৪ সালে সোনম কাপুরের সঙ্গে ‘খুবসুরত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘কপূর অ্যান্ড সন্স’ ও ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান। তবে ২০১৬ সালে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর তার বলিউড ক্যারিয়ার থেমে যায়।
বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় ভারতের প্রেক্ষাগৃহে ‘আবির গুলাল’ মুক্তি পাচ্ছে না। একই কারণে বন্ধ হয়ে গেছে হানিয়া আমির অভিনীত ‘সর্দারজি ৩’-এর মুক্তিও।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবিটি নিয়ে আশাবাদী প্রযোজকরা। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী দর্শকরাই মূলত বক্স অফিসে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানে মুক্তি উপলক্ষে ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফওয়াদ খানকে আবারও বলিউডের সহশিল্পীর সঙ্গে পর্দায় দেখতে দর্শকের আগ্রহই ছবিটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ‘আবির গুলাল’ দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানে নির্ধারিত সময়ে মুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী এক মাস পর প্রদর্শন—দুই দেশের শিল্পী নিয়ে নির্মিত ছবির যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দিল, রাজনীতির প্রাচীর টপকিয়েও সৃজনশীলতা দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে।










