পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই মক্কার আকাশ-বাতাস এখন ইবাদতের গুঞ্জনে মুখরিত। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ বা মসজিদুল হারামে ওমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় । সাদা এহরাম পরিহিত হাজার হাজার মুমিন বান্দার ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে এক অপার্থিব আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
১. জনসমুদ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অনন্য নজির
রমজানের প্রথম দিন থেকেই মক্কার কেন্দ্রস্থলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কাবার চারপাশ জুড়ে তাওয়াফরত মুসল্লিদের স্রোত যেন অন্তহীন। এই বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে সৌদি প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বয়স্ক ও অসুস্থদের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্মার্ট ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি প্রবেশপথ ও চত্বর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে করে আল্লাহর মেহমানরা নির্বিঘ্নে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।
২. ভ্রাতৃত্বের মহিমায় বিশ্বের বৃহত্তম ইফতার আয়োজন
আসরের নামাজের পর থেকেই মসজিদুল হারামের ভেতরে এবং বাইরের বিশাল চত্বর এক অন্যরকম দৃশ্যে রূপ নেয়। মাইলের পর মাইল জুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হয় সুদীর্ঘ ইফতার দস্তরখান। সেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই; রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র আর আরব্য-অনারব্য সবাই এক কাতারে বসে অপেক্ষা করেন মাগরিবের আযানের জন্য।
পরিবেশন করা হয় পবিত্র জমজমের পানি, মদিনার উন্নত মানের খেজুর, ঐতিহ্যবাহী কাহওয়া ও রুটি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা। মুসল্লিদের হাতে ইফতার তুলে দেওয়ার সময় তাদের মুখে যে অমায়িক হাসি, তা যেন ইসলামের প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
মক্কার এই দৃশ্য কেবল একটি জমায়েত নয়, বরং এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ধৈর্যের প্রতীক। তপ্ত রোদে রোজা রেখেও কাবার ছায়ায় বসে ইফতারের প্রতীক্ষা আর তারাবিহর সেজদায় লুটিয়ে পড়ার মধ্যে যে প্রশান্তি, তা বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া মেলা ভার। রমজানের বাকি দিনগুলোতে এই ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে হারামাইন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এমন সব হৃদয়স্পর্শী সংবাদ এবং আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার অনুভূতি মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের জানান।