আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন অবরোধের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সমুদ্রপথে ইরানের দুঃসাহসিক অভিযান এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ওয়াশিংটনের কড়া হুঁশিয়ারি ছিল যে ইরানের একটি জাহাজকেও বন্দর ছাড়তে দেওয়া হবে না, কিন্তু সেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার জালে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে ১৯ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে এগিয়ে চলেছে বিশালাকায় ইরানি ট্যাঙ্কার ‘হিউজ’।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও আল জাজিরার তথ্যমতে, প্রায় ২২ কোটি ডলার সমমূল্যের এই তেলের চালানটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালী অতিক্রম করছে।
গত ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ শুরুর সময় ‘হিউজ’ ইরানের জলসীমানাতেই অবস্থান করছিল। তবে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার জলসীমা পার হয়ে জাহাজটি এখন রিয়াও দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা আমেরিকার নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইরান দাবি করেছে যে তারা ইতিমধ্যে আমেরিকার চোখ ফাঁকি দিয়ে ৫২টি তেলবাহী জাহাজ গন্তব্যে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। যদিও পেন্টাগন এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, তারা ৪১টি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ওমান উপসাগরে এখনো ইরানের ৩১টি ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নির্দেশনায় সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) যখন ইরানি বন্দরগুলোতে কার্যত তালা ঝোলানোর চেষ্টা করছে, তখন তেহরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের পক্ষ থেকে শর্তহীন লিখিত প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত।
কূটনৈতিক দরকষাকষি আর পাল্টাপাল্টি সামরিক হুমকির এই দ্বৈরথ বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এবং নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।