কুয়াশাভেজা বালুচর পেরিয়ে আরিয়ান যখন জরাজীর্ণ বাতিঘরটির ভেতরে ঢুকল, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল নোনা ধরা দেয়ালগুলোতে। বাতিঘরটি বাইরে থেকে পরিত্যক্ত মনে হলেও ভেতরে অদ্ভুত এক যান্ত্রিক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই সে দেখল মাঝখানের একটি পাথরের বেদীর ওপর তিনটি চাবির গর্ত।
আরিয়ান বুঝতে পারল, এটাই সেই ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’-এর কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে ১৯৪৮ সালে নিখোঁজ হওয়া জাহাজের শেষ সংকেত পাঠানো হয়েছিল।
“চাবিগুলো বেদীতে রাখো আরিয়ান,” পেছন থেকে আরিফের শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠস্বর ভেসে এল। আরিয়ান ঘুরে তাকিয়ে দেখল আরিফ সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটি আধুনিক পিস্তল। আরিফের পেছনে দুজন সশস্ত্র লোক সাগর আর বকিবকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসছে। সাগরের কপালে আঘাতের চিহ্ন, আর বকিবের চোখ দুটো ভয়ে কোটরাগত।
“ভাইয়া, তুমি কি জানো তুমি কী করছ?” আরিয়ান আর্তনাদ করে উঠল। “এই মাইক্রোফিল্ম আর কোড যদি ভুল হাতে পড়ে, তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। বাবা এই জন্যই এটা লুকিয়ে রেখেছিলেন!” আরিফ একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। “বাবা আদর্শবাদী ছিলেন আরিয়ান, কিন্তু পৃথিবী চলে শক্তিতে। এই কোড দিয়ে আমরা পুরো বঙ্গোপসাগরের নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমরা হব এই অঞ্চলের অদৃশ্য সম্রাট।”
আরিয়ান তার পকেটে থাকা প্রথম দুটি চাবি বের করল। স্বর্ণালী আর রূপালী চাবি দুটি পাথরের বেদীর ওপর রাখতেই বেদীটি মৃদু কাঁপতে শুরু করল। কিন্তু তৃতীয় গর্তটি তখনও খালি। ডায়েরির সেই রহস্যময় লাইনটি আরিয়ানের মাথায় ঘুরছে— “দ্য থার্ড কি ইজ উইথিন দ্য ব্লাড” (তৃতীয় চাবিটি রক্তে নিহিত)।
সে বুঝতে পারল, চাবিটি কোনো ধাতু নয়, বরং তার শরীরের ডিএনএ বা রক্তই হচ্ছে সেই চূড়ান্ত কোড যা এই সিস্টেমকে আনলক করবে।
আরিয়ান নিজের রক্তাক্ত হাতটি তৃতীয় গর্তের ওপর রাখল। কয়েক ফোঁটা রক্ত ভেতরে পড়তেই পুরো বাতিঘরটি এক নীলচে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। যান্ত্রিক ঘড়ঘড় শব্দে দেয়ালের আড়াল থেকে একটি গোপন সিন্দুক বেরিয়ে এল। কিন্তু তার ভেতরে কোনো শক্তিশালী অস্ত্র ছিল না, ছিল কেবল একটি পুরনো টাইপ করা নথি এবং একটি আত্মঘাতী সুইচ।
নথিতে বাবার হাতের লেখা— “প্রজেক্ট ফিনিক্স কোনো সম্পদ নয়, এটি একটি অভিশাপ। এটি সচল করার অর্থ হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”
আরিফ উন্মত্তের মতো এগিয়ে এল মাইক্রোফিল্মটি ছিনিয়ে নিতে। ঠিক সেই মুহূর্তে আরিয়ান দেখল সাগরের ইশারা। সাগর তার হাতকড়া খুলে ফেলেছে এবং পকেট থেকে একটি জ্যামার ডিভাইস বের করেছে। আরিয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে সেই আত্মঘাতী সুইচের ওপর হাত রাখল। “ভাইয়া, তুমি যদি আর এক কদম এগিয়ে আসো, তবে এই বাতিঘর সহ আমরা সবাই নদীর তলায় চলে যাব। চয়েস তোমার।” আরিফ থমকে দাঁড়াল। বাইরে পশুর নদীর মোহনায় তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে, কিন্তু বাতিঘরের ভেতরে শুরু হতে যাচ্ছে এক মহাপ্রলয়।
পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন।
নবম পর্বে কি আরিয়ান নিজেকে বিসর্জন দিয়ে এই গোপন প্রজেক্ট ধ্বংস করে দেবে, নাকি সাগর আর বকিবকে নিয়ে পালানোর কোনো শেষ সুযোগ পাবে? আপনার মতামত জানান।