পৃথিবীর মানচিত্রের একদম দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এক রহস্যময় ও জনমানবহীন বিশাল ভূখণ্ড এন্টার্টিকা। এটি পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ, যা চিরকালই মানুষের কৌতূহল এবং রোমাঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু। মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবল সাদা বরফের চাদর আর তীব্র শীতল হাওয়া—এই নিয়েই অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে এই হিমশীতল মরুভূমি।
এন্টার্টিকার প্রায় ৯৮ শতাংশ এলাকাই গড়ে ১.৯ কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরে ঢাকা থাকে। এখানে পৃথিবীর মোট সুপেয় পানির প্রায় ৭০ শতাংশ জমা হয়ে আছে বরফ হিসেবে। বিষুবরেখা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় এখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তীর্যকভাবে পড়ে, যার ফলে তীব্র ঠান্ডা সারাবছরই বজায় থাকে। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যা একে পৃথিবীর শীতলতম স্থানে পরিণত করেছে।
বাইরে থেকে একে সম্পূর্ণ নির্জীব মনে হলেও, এই চরম প্রতিকূল পরিবেশেও কিছু অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় প্রাণীর বসবাস রয়েছে। পেঙ্গুইন এই মহাদেশের প্রধান বাসিন্দা। বিশেষ করে এম্পেরর ও অ্যাডেলি পেঙ্গুইন সাগরের তীব্র ঠান্ডা পানিতে শিকার করে এবং বরফের ওপর দলবদ্ধভাবে বাস করে। এছাড়াও সিল, অ্যালবাট্রস পাখি এবং সাগরের নিচে ক্রিল নামক এক ধরণের ছোট চিংড়ি জাতীয় প্রাণী এখানকার খাদ্যশৃঙ্খলের মূল ভিত্তি।
কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক মালিকানা নেই এই মহাদেশের ওপর। ১৯৫৯ সালের আন্তর্জাতিক ‘এন্টার্টিকা চুক্তি’ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজের জন্য উন্মুক্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা এখানে এসে জলবায়ু পরিবর্তন, মহাজাগতিক রশ্মি এবং পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। এখানকার বরফের গভীর স্তর পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন হাজার হাজার বছর আগের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অবস্থা কেমন ছিল।
বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এন্টার্টিকার বিশাল বরফখণ্ডগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। এই বরফ গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গোটা বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এক বড় হুমকি। বরফের এই বিশাল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করা পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।