থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দুঃসাহসিক ও অভিনব কায়দায় বন্যপ্রাণী পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে থাই কাস্টমস ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। গত ১ মে ২০২৬ তারিখে অন্তর্বাস ও কাপড়ের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ৩০টি বিরল প্রজাতির ‘ইন্ডিয়ান স্টার’ কচ্ছপ পাচারের সময় ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আটককৃত কিশোরী ব্যাংকক থেকে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সিকিউরিটি চেকপোস্টে স্ক্যানিং এবং তার শারীরিক চলাফেরায় সন্দেহ হওয়ায় নারী নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে তল্লাশি করেন। তল্লাশির এক পর্যায়ে দেখা যায়, তার অন্তর্বাস এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ছোট ছোট জীবন্ত কচ্ছপ আটকে রাখা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ৩০টি কচ্ছপই ‘ইন্ডিয়ান স্টার’ (Indian Star Tortoise) প্রজাতির, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিলুপ্তপ্রায় হিসেবে স্বীকৃত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোর বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৯,০০০ মার্কিন ডলার।
নিষ্ঠুরতার চিত্র
পাচারের উদ্দেশ্যে কচ্ছপগুলোকে অত্যন্ত অমানবিক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। নড়াচড়া বন্ধ করতে সেগুলোর হাত-পা ও মুখ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়, যাতে কোনো শব্দ বা নড়াচড়া বাইরে থেকে বোঝা না যায়। দীর্ঘক্ষণ এভাবে থাকায় কচ্ছপগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারের পরপরই সেগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা
থাইল্যান্ডের ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন’ এবং কাস্টমস আইন অনুযায়ী ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, বড় একটি পাচারকারী চক্রের হয়ে তিনি বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন। এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ইন্টারপোল ও স্থানীয় পুলিশ।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান স্টার কচ্ছপগুলো মূলত ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। এদের শেলের (খোলস) আকর্ষণীয় নকশার কারণে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শৌখিন পোষা প্রাণী হিসেবে এর ব্যাপক কালোবাজারি চাহিদা রয়েছে।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: businesstoday24.com