জাতিগত ক্ষোভ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা জেনারেল অং সান-এর ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দেশটির নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে এসব ভাস্কর্যকে নিশানা করা হচ্ছে, যা দেশটির গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে নতুন করে সামনে এনেছে।
জেনারেল অং সান (গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির পিতা) আধুনিক মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বর্মি (বামার) জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তবে দেশের শান, কাচিন, কারেন বা কায়াহর মতো সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পরিস্থিতি ভিন্ন। তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, অং সানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার সময় দেওয়া স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি (প্যাংলাং চুক্তি) বর্মি শাসকগোষ্ঠী রক্ষা করেনি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে যখন সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তখন বিভিন্ন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে স্থানীয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো (EAOs)। অনেক এলাকায় জান্তা বাহিনীকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর, ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অং সানের ভাস্কর্যগুলোকে বর্মি আধিপত্যবাদের প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করে।
ভাস্কর্য ধ্বংসের মূল কারণসমূহ
- ১. বর্মি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: সংখ্যালঘু অঞ্চলের মানুষের কাছে এই ভাস্কর্যগুলো দীর্ঘদিনের সামরিক স্বৈরাচার এবং বামার বা বর্মি সংস্কৃতির জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ২. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঐতিহাসিক ক্ষোভ: ১৯৪৭ সালের প্যাংলাং চুক্তিতে সংখ্যালঘুদের যে অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা পরবর্তী কোনো সরকারই বাস্তবায়ন করেনি। ফলে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে।
- ৩. এনএলডি সরকারের পূর্ববর্তী নীতি: সামরিক অভ্যুত্থানের আগে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি (ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি) সরকার যখন সংখ্যালঘু রাজ্যগুলোতে স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও জোর করে জেনারেল অং সানের মূর্তি স্থাপন করেছিল, তখন থেকেই স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছিল।










