বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে।
এরই প্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ নাগরিকদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
জ্বালানি ও গ্যাস সাশ্রয়ের বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় রোধে রান্না ও অন্যান্য কাজে সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করে লিকেজ বন্ধ করা এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার, কারপুলিং বা শেয়ারিং ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরে অফিস চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই সাশ্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যালয়ে লাইট ব্যবহার ইতিমধ্যে অর্ধেক করা হয়েছে এবং দিনের আলো ব্যবহারের সুবিধার্থে জানালার পর্দা সরিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করিডোরে এনার্জি সেভিং লাইট ব্যবহার এবং বাথরুমের অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশও কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিসে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসির বিষয়ে বলা হয়েছে যে কোথাও অবৈধ এসি থাকলে তা বন্ধ করে দিতে হবে।
জ্বালানি সংকট ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে এই কমিটি মাঠ পর্যায়ে সরকারি নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন তদারকি করবে।
সচিব আরও উল্লেখ করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি জটিল হতে পারে, যা মোকাবিলায় জাতিগতভাবে আমাদের সচেতন ও মিতব্যয়ী হওয়া এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।