১. আতঙ্কে শেয়ার বিক্রয় (Panic Sell) থেকে বিরত থাকা
বাজার যখন দ্রুত পড়তে থাকে, তখন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী ভয় পেয়ে লোকসানে শেয়ার ছেড়ে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বিক্রি না করা পর্যন্ত আপনার লোকসানটি কেবল খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। বাজার যখন আবার ঘুরে দাঁড়াবে, তখন ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারগুলো আগের অবস্থানে ফিরে আসে। তাই তাৎক্ষণিক আবেগতাড়িত হয়ে মূলধন হারানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
২. কোম্পানির মৌলিক অবস্থা বা ফান্ডামেন্টাল যাচাই
দরপতনের সময় দেখা উচিত আপনার হাতে থাকা শেয়ারটির কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা কেমন। যদি কোম্পানির আয় (Earnings), ব্যবস্থাপনা এবং ডিভিডেন্ড দেওয়ার রেকর্ড ভালো থাকে, তবে সাময়িক দরপতনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। রাজনৈতিক বা বৈশ্বিক কারণে পুরো বাজার পড়লে ভালো শেয়ারের দামও কমে, যা মূলত ভবিষ্যতে লাভের বড় সুযোগ তৈরি করে।
৩. ‘অ্যাভারেজিং’ বা গড় ক্রয়মূল্য কমিয়ে আনা
বাজার যখন অনেক নিচে নেমে যায়, তখন ভালো মানের শেয়ারগুলো সস্তায় পাওয়া যায়। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা এ সময় তাদের হাতে থাকা ভালো শেয়ারগুলো অল্প অল্প করে পুনরায় ক্রয় করেন। এতে তাদের গড় ক্রয়মূল্য কমে আসে, ফলে বাজার সামান্য বাড়লেই তারা দ্রুত লাভে পৌঁছাতে পারেন।
৪. দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে স্থির থাকা
শেয়ারবাজার কোনো স্বল্পমেয়াদী লটারি নয়। যারা ৫ থেকে ১০ বছরের লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করেন, সাময়িক দরপতন তাদের খুব একটা স্পর্শ করতে পারে না। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বড় পতনের পরেই বাজার আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তাই ধৈর্য ধরাই এখানে সবচেয়ে বড় মূলধন।
৫. গুজব ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এড়িয়ে চলা
অস্থির সময়ে বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এক শ্রেণির অসাধু চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখিয়ে কম দামে ভালো শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অনির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র বা সামাজিক মাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর ভরসা করা জরুরি।
৬. পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ (Diversification)
সব অর্থ একটি নির্দিষ্ট খাতে বা একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পোর্টফোলিওতে ব্যাংক, টেলিকম, ওষুধ বা বিদ্যুৎ খাতের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতের শেয়ার থাকলে একটি খাতে ধস নামলেও অন্য খাতের স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
শেয়ারবাজারের অস্থিরতা মূলত ধৈর্য ও কৌশলের পরীক্ষা। যখন সবাই ভয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে, তখন শান্ত থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন সফল বিনিয়োগকারীর পরিচয়। মনে রাখতে হবে, লাল সংকেত যেমন ভয়ের উদ্রেক করে, তেমনি এটি নতুন করে বিনিয়োগের সবুজ সংকেতও বয়ে আনতে পারে।