- যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমা সুবিধা স্থগিত।
- জাহাজ চলাচল ব্যাহত ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি
- ১৫০টিরও বেশি জাহাজ আটকা
শিপিং ডেস্ক: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গার্ড (Gard), স্কাল্ড (Skuld), নর্থ-স্ট্যান্ডার্ড (NorthStandard), লন্ডন পিঅ্যান্ডআই ক্লাব এবং আমেরিকান ক্লাবের মতো বড় বড় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ৫ মার্চ থেকে তারা ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমা সুবিধা স্থগিত করবে। কিছু কোম্পানি এরই মধ্যে ৭ দিনের নোটিশ দিয়ে তাদের বার্ষিক পলিসি বাতিল করেছে। এর ফলে জাহাজ মালিকদের হয় উচ্চমূল্যে নতুন করে বীমা নিতে হচ্ছে, অথবা ওই পথ এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বীমা প্রিমিয়াম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার ফলে এ পর্যন্ত অন্তত চারটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন নাবিক নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে (মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী ‘MKD VYOM’ ট্যাঙ্কারে হামলায় এই প্রাণহানি ঘটে)। এছাড়া ওমানের দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলা এবং বাহরাইন বন্দরে অবস্থানরত মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘স্টেনা ইমপারেটিভ’-এ আগুনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শিপিং ডাটা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী এবং এর আশপাশের জলসীমায় অন্তত ১৫০ থেকে ২০০টি জাহাজ (যার মধ্যে তেল ও এলএনজি ট্যাঙ্কার অন্যতম) নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করছে। ইরান এই জলপথটি ‘কার্যত বন্ধ’ বলে ঘোষণা করায় এবং নিয়মিত টহল ও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করায় জাহাজগুলো এগোতে পারছে না।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম একদিনেই প্রায় ৭-৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিপিং কোম্পানি তাদের জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে (উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে) ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যা পরিবহন খরচ এবং সময় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বীমা কোম্পানিগুলোর এই পিছুটান এবং সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটটি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করা ও মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইল।










