Home আন্তর্জাতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরসমূহে ট্রাম্প বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে।

“No Kings” (নো কিংস) আন্দোলনের ব্যানারে ২৮ মার্চ আয়োজিত এই বিক্ষোভটি ছিল চলতি বছরের তৃতীয় বৃহত্তম জাতীয় প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ার তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভের মূলে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ। প্রধান কারণগুলো হলো:

  • কর্তৃত্ববাদী নীতি: বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।
  • অভিবাসন অভিযান: দেশজুড়ে বড় আকারের গণ-নির্বাসন বা ‘ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউন’-এর কারণে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো রাজপথে নেমেছে।
  • ইরান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনীতি: মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আশঙ্কায় যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সোচ্চার হয়েছে।
  • ফেডারেল শাটডাউন: বাজেট নিয়ে অচলাবস্থার কারণে দীর্ঘস্থায়ী ফেডারেল শাটডাউন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিক্ষোভের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:

শহর বিশেষ হাইলাইট
ওয়াশিংটন ডিসি ন্যাশনাল মলের সামনে কয়েক লাখ মানুষের জমায়েত।
নিউ ইয়র্ক টাইমস স্কয়ার এবং ট্রাম্প টাওয়ার অভিমুখে মিছিল।
শিকাগো মিশিগান অ্যাভিনিউতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি।
লস অ্যাঞ্জেলেস অভিবাসী অধিকার রক্ষায় বিশাল সমাবেশ।
পোর্টল্যান্ড ও নিউ অরলিন্স স্থানীয় সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ অথচ দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ।

আমেরিকার এই অভ্যন্তরীণ আন্দোলন কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ হয়েছে:

কানাডা ও মেক্সিকো: প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সীমান্তে মানবিক নীতির দাবিতে বিক্ষোভ।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স: ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোতে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ: মিনেসোটার সমাবেশে প্রখ্যাত রক তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন সশরীরে যোগ দেন এবং প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

নেতৃস্থানীয় সংগঠন: এই আন্দোলনে AFL-CIO (শ্রমিক ইউনিয়ন), Democratic Socialists of America (DSA), এবং Indivisible movement সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভগুলো কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। ডেমোক্র্যাট এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই জনঅসন্তোষকে পুঁজি করে আগামী নির্বাচনের জন্য জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে শাটডাউন এবং যুদ্ধের আবহ বজায় থাকলে এই আন্দোলন আরও উগ্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২৮ মার্চের এই বিক্ষোভ মার্কিন রাজনীতিতে গভীর মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ। হোয়াইট হাউস যদি বিক্ষোভকারীদের দাবি বা উদ্বেগের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে এপ্রিল মাসে আরও বড় ধরনের ধর্মঘটের সম্ভাবনা রয়েছে।