লন্ডন: টেমস নদীর অববাহিকায় এখন চরম রাজনৈতিক উত্তাপ। সাধারণ ব্রিটিশদের মুখে এখন একটাই আলোচনা—১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন?
লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ তীব্র সংকট ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের মুখে গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে।
লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংসদীয় অলিন্দ ঘুরে এই মুহূর্তে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে যিনি সম্পূর্ণ এককভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং একমাত্র প্রধান অগ্রগামী প্রার্থী, তিনি হলেন— অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (Andy Burnham)।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়রকে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী দলীয় প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হতে হলে সংসদ সদস্য (MP) হওয়া বাধ্যতামূলক। এই কারণেই গত জুন মাসে মেকারফিল্ড (Makerfield) উপ-নির্বাচনে জিতে তিনি পুনরায় সংসদে ফিরে আসেন এবং কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পরপরই নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।
লন্ডনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অগ্রগামিতার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যাকে ভাবা হচ্ছিল, সেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং (Wes Streeting) নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে বার্নহ্যামকে সমর্থন জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারসহ লেবার পার্টির অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও এমপি ইতিমধ্যেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি তাঁদের আস্থা প্রকাশ করেছেন। ফলে তাঁর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ এবং লেবার পার্টির কর্মীদের কাছেও এই মুহূর্তে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে উঁচুতে।
এখানে ৯ জুলাই থেকে সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত। যদি ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিপক্ষে অন্য কোনো শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত এমপিদের সমর্থন জোগাড় করতে না পারেন, তবে কোনো সাধারণ ভোট ছাড়াই তাঁকে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই রাজা চার্লস ৩-এর আমন্ত্রণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করবেন।
লন্ডনের কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এখন শুধু দেখার অপেক্ষা, নতুন চাবি কার হাতে উঠছে।