Home Third Lead ৭ হাজার রাসায়নিকের আক্রমণ: তামাকের ধোঁয়ায় শরীরের ভেতরে যা ঘটে

৭ হাজার রাসায়নিকের আক্রমণ: তামাকের ধোঁয়ায় শরীরের ভেতরে যা ঘটে

হেলথ ডেস্ক: তামাক সেবন বা ধূমপানকে কেবল একটি ‘খারাপ অভ্যাস’ হিসেবে দেখার দিন শেষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তামাককে সরাসরি একটি মহামারি এবং ধীরগতির বিষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিড়ি, সিগারেট, চুরুট কিংবা ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, সাদাপাতা)—যে রূপেই এটি গ্রহণ করা হোক না কেন, তা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।
তামাকের ধোঁয়ায় নিকোটিন ছাড়াও কার্বন মনোক্সাইড, আর্সেনিক, ফরমালডিহাইড এবং আলকাতরার (Tar) মতো প্রায় ৭,০০০-এর বেশি রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি উপাদান সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো মানবদেহে যেভাবে ক্ষতি করে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
 ফুসফুস ও শ্বসনতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি
ধূমপানের ফলে সবচেয়ে প্রথম ও সরাসরি আঘাত আসে ফুসফুসের ওপর। তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই (Alveoli) ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), এমফিসেমার (Emphysema) মতো জটিল রোগ সৃষ্টি হয়, যাতে আক্রান্ত হলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা হারায়। এছাড়া ফুসফুসের ক্যানসারের প্রধান কারণই হলো তামাক।
 হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি
নিকোটিন রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে এবং হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় (Atherosclerosis), যা আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনেও তামাকের বড় ভূমিকা রয়েছে।
ক্যানসারের প্রধান উৎস
কেবল ফুসফুস নয়, তামাকের কারণে মুখগহ্বর, গলা (Throat), খাদ্যনালী (Esophagus), পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় (Pancreas), মূত্রথলি (Urinary bladder) এবং জরায়ুর ক্যানসার হতে পারে। যারা ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন জর্দা বা গুল ব্যবহার করেন, তাদের ওরাল ক্যানসার বা মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।
 প্রজনন স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষতি
তামাক পুরুষ ও নারী উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। গর্ভবতী মায়েরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হলেও গর্ভস্থ শিশুর ওজন কমে যাওয়া, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বা মৃত শিশু জন্মের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া তামাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, হাড় দুর্বল করে এবং ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে।
তামাকের এই ক্ষতিকর প্রভাব কেবল ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, পরোক্ষ ধূমপানের (Second-hand smoking) কারণে তার আশেপাশে থাকা পরিবার ও বিশেষ করে শিশুরা সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সুস্থ জীবনের প্রয়োজনে তামাক বর্জন করাই একমাত্র সমাধান।
নিয়মিত এমন তথ্যবহুল ও সচেতনতামূলক কন্টেন্ট পেতে Visit www.businesstoday24.com