‘সিলেটের জামাই’ আসছেন পুণ্যভূমিতে, শুরু হচ্ছে নির্বাচনী মহাযাত্রা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পুণ্যভূমি সিলেটে পা রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১শে জানুয়ারি তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন এবং পরদিন ২২শে জানুয়ারি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেই তারেক রহমান আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট থেকেই এই নির্বাচনী যাত্রা শুরু করছেন।
সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও সময়সূচি
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে এক নিশ্ছিদ্র ও বর্ণাঢ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে:
আগমন ও রাতযাপন: ২১শে জানুয়ারি তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন। ওই রাতে তিনি সিলেট সার্কিট হাউস অথবা নির্ধারিত কোনো অভিজাত হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। তার অবস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমানে তিনটি স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে।
মাজার জিয়ারত: ২২শে জানুয়ারি সকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।
বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ: মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এই সমাবেশে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সকল প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
সড়কপথে ঢাকা প্রত্যাবর্তন: সিলেটের সমাবেশ শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পথে মৌলভীবাজারের প্রার্থীদের নিয়ে শেরপুরে এবং হবিগঞ্জের প্রার্থীদের নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে দুটি পৃথক সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
জামাই বরণে প্রস্তুত শ্বশুরবাড়ি
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে সিলেটে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি পারিবারিক আমেজও বিরাজ করছে। যেহেতু ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক আদি নিবাস সিলেটে, তাই স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘সিলেটের পরম আত্মীয়’ বা ‘জামাই’। গুঞ্জন রয়েছে, এই সফরে তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও থাকতে পারেন। তারা সঙ্গে থাকলে এই সফর আরও বর্ণিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সিনিয়র নেতারা।
নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও প্রস্তুতি
সর্বশেষ ২০০৫ সালে তৃণমূল সম্মেলনে যোগ দিতে সিলেটে এসেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর এবং দলের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর। এ নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। আজ সন্ধ্যায় নগরের একটি হোটেলে প্রস্তুতির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, “তারেক রহমান আমাদের পরম আত্মীয়। তিনি আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। তার আসার খবরে পুরো সিলেট জুড়ে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এই সমাবেশ জনস্রোতে পরিণত হবে এবং এখান থেকেই সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার শুরু হবে।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য: রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি প্রধানের এই সফর তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৫শে ডিসেম্বর সিলেট হয়ে ঢাকা ফেরার সময় তিনি বিমান থেকে না নামলেও ভক্তদের যে ঢল নেমেছিল, এবার সশরীরে তার উপস্থিতি সেই গণজোয়ারকে নির্বাচনী জয়ে রূপান্তর করবে বলে দলটির বিশ্বাস।