Home Third Lead নাহার এগ্রো গ্রুপ: তিল তিল করে গড়া এক কৃষি বিপ্লবের মহাকাব্য

নাহার এগ্রো গ্রুপ: তিল তিল করে গড়া এক কৃষি বিপ্লবের মহাকাব্য

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,  চট্টগ্রাম: নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলাদেশের কৃষি ও পোল্ট্রি খাত ছিল অসংগঠিত, তখন এক তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টা ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। মাত্র কয়েকশ মুরগি নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই উদ্যোগ আজ হাজার কোটি টাকার শিল্পগোষ্ঠী ‘নাহার এগ্রো গ্রুপ’। আধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই কৃষি ভাবনার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অন্যতম স্তম্ভ।
রাকিবুর রহমান টুটুল। ব্যবস্থাপনা পরিচালক
উদ্যোক্তার প্রতিকৃতি: রাকিবুর রহমান টুটুল
নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান টুটুল। চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক। তিনি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের একজন পথপ্রদর্শক। তার সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো—নিষ্ঠা, উদ্ভাবন এবং গুণমানের সাথে আপসহীনতা।
সংগ্রাম ও দূরদর্শিতা: পৈতৃক ব্যবসার বাইরে গিয়ে তিনি কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
নেতৃত্ব: তিনি বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএ) সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পোল্ট্রি খাতের নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।


নাহার এগ্রো গ্রুপের প্রধান প্রকল্পসমূহ
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন থেকে শুরু করে পশুখাদ্য ও অর্গানিক সার উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত।
খাত
বিবরণ
পোল্ট্রি ব্রিডিং
দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্র্যান্ড প্যারেন্ট (GP) এবং প্যারেন্ট স্টক ফার্ম।
ফিড মিল
উচ্চমানের পোল্ট্রি, ক্যাটেল এবং ফিশ ফিড উৎপাদন।
ডেইরি
উন্নত জাতের গরু পালন এবং দুধ উৎপাদন।
মৎস্য চাষ
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং পোনা উৎপাদন।
জৈব সার
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্গানিক সার উৎপাদন।

কেন নাহার এগ্রো গ্রুপ স্বতন্ত্র?
১. উন্নত প্রযুক্তি: তারা বিশ্বের সর্বাধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে হ্যাচারি এবং ফিড মিল পরিচালনা করে।
২. মান নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি ধাপে কঠোর বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
৩. কর্মসংস্থান: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই গ্রুপটি।
৪. কৃষক উন্নয়ন: প্রান্তিক খামারিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কর্মসংস্থান

রাকিবুর রহমান টুটুলের এই উদ্যোগ কেবল মুনাফাকেন্দ্রিক নয়।
কর্মসংস্থান: বর্তমানে এই গ্রুপে সরাসরি প্রায় ১০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
খামারি প্রশিক্ষণ: নাহার এগ্রো প্রান্তিক খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা করে।
পরিবেশ রক্ষা: খামারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং উন্নতমানের জৈব সার (Organic Fertilizer) উৎপাদন করে তারা টেকসই কৃষির উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
রাকিবুর রহমান টুটুলের নেতৃত্বে নাহার এগ্রো এখন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বা ‘রেডি-টু-কুক’ চিকেন পণ্যের বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ প্রোটিন পৌঁছে দেওয়া।
রাকিবুর রহমান টুটুলের কঠোর পরিশ্রম এবং নাহার এগ্রোর নিরবিচ্ছিন্ন সেবা বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নাহার এগ্রোর এই অগ্রযাত্রা একটি বড় অনুপ্রেরণার উৎস।
“নিরাপদ প্রোটিন সবার অধিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নাহার এগ্রো গ্রুপ এগিয়ে চলেছে। রাকিবুর রহমান টুটুলের সততা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা আগামী দিনে বাংলাদেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও বাংলাদেশি কৃষি পণ্য রপ্তানির পথ প্রশস্ত করছে।