
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে বাংলাদেশের বাজারে ফিরল উচ্চমানের মার্কিন ভুট্টা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাটে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ৫৭ হাজার ৮৫৫ টনের বিশাল এক চালানের খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এই চালানটি দেশের পোলট্রি ও পশুখাদ্য শিল্পে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পশুখাদ্য খাতের শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ ও নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড—যৌথভাবে এই ভুট্টা আমদানি করেছে। প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা (১ কোটি ৪২ লাখ ডলার) ব্যয়ে আসা এই চালানটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে ‘এমভি বেলটোকিও’ জাহাজে করে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে এজি অ্যাগ্রো লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি করেছিল।
মূল্যের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
মজার বিষয় হলো, মানের দিক থেকে সেরা হলেও দামে ব্রাজিলকে টেক্কা দিচ্ছে মার্কিন ভুট্টা। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী:
| দেশের নাম | টনপ্রতি আমদানিমূল্য (ডলার) |
| যুক্তরাষ্ট্র | ২৪৬ ডলার |
| ব্রাজিল | ২৫১ – ২৬০ ডলার |
সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে স্থানীয় বাজারে পশুখাদ্যের উৎপাদন খরচ কমার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ডিম ও মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশে ভুট্টার চাহিদা প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে।
পোলট্রি ও মৎস্য খাদ্য: দেশে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত ভুট্টার প্রায় ৮০-৮৫% ব্যবহৃত হয় মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরিতে। এটি প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস।
স্টার্চ শিল্প: টেক্সটাইল ও ওষুধ শিল্পে গ্লুকোজ এবং স্টার্চের কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার বিশাল চাহিদা রয়েছে।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ: ভুট্টার খই (পপকর্ন), চিপস এবং কর্নফ্লাওয়ারের জনপ্রিয়তার কারণে খাদ্য শিল্পেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকরা বছরে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন করছেন। তবে বাকি ২০-২৫ লাখ টনের ঘাটতি মেটাতে হয় আমদানির মাধ্যমে। মূলত ভারত, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে এই চাহিদা মেটানো হতো। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় বাজারে প্রবেশ আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনল।
যা বললেন সংশ্লিষ্টরা:
ভুট্টার চালান খালাস উপলক্ষে আয়োজিত ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এই ভুট্টাগুলো ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমের। তিনি ভুট্টার গুণগত মান এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা দেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বড় জাহাজে আসা এই ভুট্টা বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে খালাস করে গুদামে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন এই শস্য রপ্তানি করেছে, যা বাংলাদেশের পোলট্রি খাতে প্রাণী পুষ্টির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করবে।









