Home First Lead প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর ড. ইউনূসের নতুন মিশন; চমকে যাওয়ার মতো...

প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর ড. ইউনূসের নতুন মিশন; চমকে যাওয়ার মতো ৩ পরিকল্পনা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি কী করবেন, তিনি কি অবসরে যাবেন নাকি নতুন কোনো দায়িত্বে ফিরবেন—এ নিয়ে দেশজুড়ে বইছে কৌতূহলের ঝড়।
অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন এই নোবেলজয়ী।
 রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিণী আকিয়ে আবের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নিজের আগামীর কর্মপরিকল্পনা ব্যক্ত করেন তিনি।
ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ মিশনের ‘তিন স্তম্ভ’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ড. ইউনূস মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করবেন:
১. ডিজিটাল হেলথকেয়ার বিপ্লব: ড. ইউনূসের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় স্বাস্থ্যসেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রবাসীরা যাতে বিদেশ থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের নিয়মিত তদারকি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করবেন তিনি।
২. তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি: দেশের যুবসমাজকে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার যে সংগ্রাম তিনি দীর্ঘকাল ধরে করে আসছেন, তা আরও বেগবান করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
৩. ‘থ্রি জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা: দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ—এই তিনটিকে শূন্যে নামিয়ে আনার বিশ্ববিখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (Three Zero) ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি। “ক্ষমতা হস্তান্তর আমার দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং মানবতার সেবায় নতুন করে ফেরার শুরু।”
মার্চেই জাপান সফর: নতুন দিগন্তের হাতছানি
নির্বাচন পরবর্তী ব্যস্ততা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি জাপান সফর করবেন। জাপানের বিখ্যাত সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
এই সফরে বিশেষ নজর থাকবে ‘ওশিয়ান রিসার্চ’ বা সমুদ্র গবেষণার ওপর। বাংলাদেশ কীভাবে এই খাতে জাপানের কারিগরি সহযোগিতা নিতে পারে, তা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আবে-ইউনূস বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ
বৈঠকে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন ড. ইউনূস। আকিয়ে আবেও ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি শুভকামনা জানান।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন ড. ইউনূসের এই গঠনমূলক পরিকল্পনা জনমনে নতুন করে আলোচনার খোরাক দিচ্ছে।