Home First Lead প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: কেন সব অফিস ঢাকায় থাকবে?

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: কেন সব অফিস ঢাকায় থাকবে?

মন্তব্য  প্রতিবেদন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : সম্প্রতি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সীকম শিপিং ও  প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন—বিনিয়োগ বোর্ড বা ডিজি শিপিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো কেন চট্টগ্রামে না থেকে ঢাকায় থাকবে?
তার এই প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা নয়, বরং দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অপরিহার্য দাবি।
কেন এই বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি?
১. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা: চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। অথচ বন্দর বা শিপিং সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তের জন্য ফাইল চালাচালি করতে হয় ঢাকার সচিবালয়ে। এই ভৌগোলিক দূরত্ব ব্যবসার গতি কমিয়ে দেয় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ায়।
২. পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর চাপ: দেশের সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ অসহনীয় হয়ে পড়েছে। আমিরুল হকের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি শিপিং বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত দপ্তরগুলো চট্টগ্রামে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে ঢাকার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি চট্টগ্রামও সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা পাবে।
৩. বাস্তব অভিজ্ঞতা বনাম দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত: যারা মাঠ পর্যায়ে ব্যবসা করছেন, তাদের সমস্যাগুলো বন্দরনগরীতে বসে সমাধান করা যতটা সহজ, ঢাকা থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা ততটাই কঠিন। মুম্বাই বা নিউইয়র্ক যেমন তাদের দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ করে, চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও সেই মডেল অনুসরণ করা প্রয়োজন।
৪. যোগাযোগ ও সময় সাশ্রয়: বক্তব্যে উঠে এসেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত আড়াই ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথা। প্রশাসনিক দপ্তরগুলো চট্টগ্রামে থাকলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে বিনিয়োগকারীরা মুহূর্তের মধ্যে দাপ্তরিক কাজ শেষ করে ফিরতে পারবেন, যা সরাসরি জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যিক রাজধানী কেবল মুখে ঘোষণা করলেই হয় না, তার জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। আমিরুল হকের দাবি অনুযায়ী, যেসব সরকারি সংস্থার কার্যকারিতা চট্টগ্রামের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো অবিলম্বে  স্থানান্তর করা উচিত। ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে এবং চট্টগ্রামকে কর্মচঞ্চল করতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।