Home আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ও আরব রাষ্ট্রগুলোর ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ও আরব রাষ্ট্রগুলোর ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’

উপসাগরীয় দেশগুলোর শক্ত অবস্থান: আকাশসীমা ব্যবহারে ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত ১৪ এবং ১৫ জানুয়ারির কূটনৈতিক তৎপরতায় এটি স্পষ্ট যে, সৌদি আরব, ওমান এবং কাতার ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের মার্কিন বা ইসরায়েলি সামরিক হামলার বিরোধী। দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে যে:

আকাশসীমা ও ভূখণ্ড: মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য তাদের আকাশসীমা বা মাটিতে থাকা ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে না।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: রিয়াদ ও দোহা মনে করছে, ইরানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ (সরকার পরিবর্তন)-এর চেষ্টা হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং তাদের নিজস্ব ভিশন-২০৩০-এর মতো অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সরাসরি যোগাযোগ: সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা এই দ্বন্দ্বে অংশ নেবে না। এটি চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরান-সৌদি সম্পর্কের উন্নতির একটি বড় প্রতিফলন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বর্তমানে বেশ দ্বিমুখী এবং কৌশলী বলে মনে হচ্ছে। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে “HELP IS ON ITS WAY” (সাহায্য আসছে) লিখে বার্তা দিলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার সুর কিছুটা নরম হয়েছে:

সামরিক দ্বিধা: পেন্টাগন ট্রাম্পকে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর (পারমাণবিক কেন্দ্র বা ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট) তালিকা দিলেও তিনি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে অর্থনৈতিক চাপের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

শুল্ক আরোপ: ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক (Tariff) আরোপ করবে। এটি মূলত সামরিক হামলার বদলে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল।

বেসরকারি বার্তা: কূটনৈতিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যা যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাইরে থেকে সুর নরমের আভাস পাওয়া গেলেও তেহরান এখনো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এর কারণগুলো হলো:

পাল্টা হামলার হুমকি: ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি তাদের ওপর কোনো হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং তেলবাহী জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত: ১৫ জানুয়ারি ইরান তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাৎক্ষণিক বড় কোনো হামলার আশঙ্কা তারা এখন কম দেখছে।

বিক্ষোভ পরিস্থিতি: দেশের অভ্যন্তরে কঠোর দমন-পীড়নের ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় ২,৬০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের পর ইরান সরকার এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর (বিশেষ করে সৌদি আরব) এই দৃঢ় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য বড় যুদ্ধ ঠেকিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তার আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা না পায়, তবে এককভাবে ইরানে আক্রমণ চালানো তাদের জন্য সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। তবে ট্রাম্পের ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বা অনিশ্চিত স্বভাবের কারণে ইরান এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না।