Home আন্তর্জাতিক ভারতে সংখ্যালঘু বিদ্বেষের বিষবাষ্প: এক বছরে বেড়েছে ১৩ শতাংশ

ভারতে সংখ্যালঘু বিদ্বেষের বিষবাষ্প: এক বছরে বেড়েছে ১৩ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের হার গত বছরে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে অন্তত ১,৩১৮টি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,১৬৫ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৬৬৮।
প্রতিবেদনের মূল তথ্যসমূহ:
বিজেপি শাসিত রাজ্যে আধিক্য: মোট ১,৩১৮টি ঘটনার মধ্যে ১,১৬৪টি (প্রায় ৮৮%) ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে।
মাসিক রেকর্ড: ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে (১৫৮টি)। এর একটি বড় অংশ (৯৮টি ঘটনা) ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পাহলগামে একটি হামলার ঘটনার পর এবং মে মাসের শুরুর দিকে ভারত-পাকিস্তান উত্তজনা চলাকালীন রেকর্ড করা হয়।
শীর্ষ রাজ্যসমূহ: উত্তরপ্রদেশ (২৬৬), মহারাষ্ট্র (১৯৩), এবং মধ্যপ্রদেশ (১৭২) বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র (২০২৩-২০২৫)
বছর বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সংখ্যা বৃদ্ধির হার (পূর্ববর্তী বছরের তুলনায়)
২০২৩ ৬৬৮
২০২৪ ১,১৬৫ প্রায় ৭৪%
২০২৫ ১,৩১৮ ১৩%

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। তারা বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন (CAA), ধর্মান্তর বিরোধী আইন এবং ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘের সংজ্ঞানুযায়ী, ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেতিবাচক বা বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার করাই হলো ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বরাবরই এই ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারের খাদ্য ভর্তুকি বা বিদ্যুৎ সংযোগের মতো উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

“বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কেবল শব্দ নয়; এটি রাজনৈতিক সহিংসতার একটি রূপ—যা গণপিটুনি বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপট তৈরি করে।” — ইন্ডিয়া হেট ল্যাব রিপোর্ট