বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: শীতের কুয়াশা ছাপিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে শুরু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের উত্তাপ। গতকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের অপেক্ষার অবসান হয়েছে, আর আজ সকাল থেকেই সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার লড়াইয়ে প্রার্থীরা।
তপশিল ঘোষণার দীর্ঘ এক মাস পর মূলত আজ থেকেই দেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া-মহল্লায় আসল ভোটের উৎসব।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের ২৯৮টি আসনে এবার ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি হাতে নিয়ে প্রার্থীরা যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন সমর্থকদের উল্লাসে উৎসবের আবহ তৈরি হয় দেশজুড়ে।
৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনী ময়দানে লড়ছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে বিএনপি ‘ধানের শীষ’, ২৫৯ জন প্রার্থী নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ এবং ২২৫ জন প্রার্থী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে মাঠ দাপাচ্ছেন।
পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিচ্ছে।
তবে এবারের ভোটের উৎসবে কিছুটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে নির্বাচন কমিশনের কঠোর আচরণবিধি। উৎসব যেন জনভোগান্তিতে রূপ না নেয়, সেজন্য মাইকের শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন প্লাস্টিক বা পলিথিনের প্রচার সামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে গুজব ছড়ানো বন্ধে কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
প্রচার শুরুর আগেই বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ ও জরিমানার ঘটনা ঘটায় প্রার্থীরাও এখন বেশ সতর্ক।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত টানা ২১ দিন চলবে এই প্রচার-প্রচারণা। এরপর ৪৮ ঘণ্টার বিরতি দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ। আজ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
এখন সবার অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির, যেদিন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী দিনের সংসদ সদস্যদের ভাগ্য।










