ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কনস্যুলেট ভবন থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা ছিল যা ভবনের পাশের একটি পার্কিং লটে আঘাত হানে।
দুবাই মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছিল, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার দুবাই, আবুধাবি এবং দোহার মতো প্রধান শহরগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সময় এই শব্দগুলো তৈরি হয়। এর ফলে শহরজুড়ে সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর থেকে কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব এবং কুয়েতসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান।
দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ দ্বীপের পাঁচ তারকা হোটেল ‘ফেয়ারমন্ট’ ড্রোন বা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ পর্যটকরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। এমনকি বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফাও হামলার আশঙ্কায় খালি করা হয়েছে।
আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এমিরেটস এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ব্যাপকহারে কমিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং কাতার এয়ারওয়েজ তাদের যুক্তরাজ্যগামী সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে। দুবাই বিমানবন্দরে হাজার হাজার পর্যটক দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। অনেক ব্রিটিশ পর্যটক অভিযোগ করেছেন যে, এয়ারলাইন্স বা সরকারের পক্ষ থেকে তারা পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না।
ট্রাম্পের সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রাইডরিশ মার্জের সাথে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প স্টারমারকে ‘অসহযোগিতামূলক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বর্তমান ব্রিটিশ নেতৃত্ব উইনস্টন চার্চিলের মতো দৃঢ় নয়। বিশেষ করে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বর্তমানে দুবাই এবং এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত বিদেশিরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং এই পরিস্থিতির বিষয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।