Home আকাশ পথ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি? বিশ্বের শীর্ষ ৪ পরাশক্তির কাছে কত যুদ্ধবিমান?

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি? বিশ্বের শীর্ষ ৪ পরাশক্তির কাছে কত যুদ্ধবিমান?

এভিয়েশন ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত বৈশ্বিক সামরিক শক্তি বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট (যেমন FlightGlobal ও WDMMA) অনুযায়ী, বিশ্বের আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখতে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং এআই-চালিত ড্রোন যুক্ত হওয়ায় সামরিক বিমান বহরের শক্তিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
শীর্ষ চারের শক্তিমত্তা বিশ্লেষণ

২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শীর্ষ চারটি দেশের সক্রিয় যুদ্ধবিমান বহরের (Combat Aircraft) চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

অবস্থান দেশ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা মূল বিশেষত্ব
যুক্তরাষ্ট্র ২,৭১৮+ F-35 ও F-22 এর মতো অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি।
চীন ১,৮১৪+ দ্রুত বর্ধনশীল J-20 ও নতুন J-35 স্টেলথ বহর।
রাশিয়া ১,৫৫৯+ শক্তিশালী ইন্টারসেপ্টর (MiG-31) ও কৌশলগত বোমারু বিমান।
ভারত ৬০০+ রাফাল এবং তেজস (Tejas MK-1A) এর মাধ্যমে আধুনিকায়ন।

১. যুক্তরাষ্ট্র: অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশ শক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ১৩,০০০ ছাড়িয়ে গেলেও শুধুমাত্র ‘কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ বা সরাসরি যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২,৭১৮টি। দেশটির নৌবাহিনী (US Navy) ও মেরিন ক্রপসের বিমান বহরগুলো এককভাবে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে শক্তিশালী। ২০২৬ সালে তাদের মূল ফোকাস হচ্ছে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি এবং ড্রোন-ফ্লাইট সমন্বয়।

২. চীন: দ্রুত উত্থান ও আধুনিকায়ন
চীন ১,৮১৪টি যুদ্ধবিমান নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে সংখ্যার চেয়ে তাদের মূল শক্তি এখন প্রযুক্তিতে। ২০২৬ সালে চীনের J-35 স্টেলথ যুদ্ধবিমান নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়া শুরু করেছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
৩. রাশিয়া: বিশাল কিন্তু সংস্কারাধীন

১,৫৫৯টি যুদ্ধবিমান নিয়ে রাশিয়া তৃতীয় স্থানে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর রাশিয়া তাদের Su-57 স্টেলথ বিমান এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তবে উৎপাদন গতি ও আধুনিক চিপের সংকটের কারণে তারা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

৪. ভারত: দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি

ভারত ৬০০টি সক্রিয় যুদ্ধবিমান নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ভারতের জন্য ২০২৬ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে-১এ (Tejas MK-1A) বিপুল সংখ্যায় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এছাড়া ফ্রান্সের রাফাল এবং রাশিয়ার সুখোই-৩০ এমকেআই ভারতের মূল শক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে কেবল বিমানের সংখ্যা দিয়ে শক্তি পরিমাপ করা ভুল হবে। বর্তমান যুদ্ধের ধরন বদলেছে। এখনকার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করছে:

স্টেলথ ক্ষমতা: রাডারে ধরা না পড়ার সক্ষমতা।

এআই ইন্টিগ্রেশন: পাইলটবিহীন ড্রোনের সাথে যুদ্ধবিমানের সমন্বয়।

বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR): অনেক দূর থেকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা।

উপসংহার: আকাশপথের এই অসম লড়াইয়ে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও চীন ও ভারত যেভাবে তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই তালিকায় আরও বড় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।