বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি খাতের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিশেষ কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ জারি করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা ইউনিট’। মূলত দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ বুলেটিন (নং ১১০) প্রকাশ করা হয়েছে।
বোরো ধানের বীজতলা রক্ষা
শৈত্যপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে বোরো ধানের চারা নিয়ে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:
পলিথিন ব্যবহার: অতিরিক্ত ঠান্ডায় চারা বাঁচাতে বিকেল ৩টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। তবে পলিথিন যেন চারার পাতা স্পর্শ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনা: বীজতলায় রাতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা এবং সকালে সেই পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির লাঠি বা রশির সাহায্যে ঝরিয়ে দিতে হবে।
রোগ নিরাময়: চারা পোড়া রোগ প্রতিরোধে ‘এমিস্টার টপ’ বা ‘সেল্টিমা’ জাতীয় ছত্রাকনাশক ৩ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পেঁয়াজ, রসুন ও ডাল জাতীয় ফসল
নিম্ন তাপমাত্রা ও কুয়াশার কারণে পেঁয়াজ ও রসুনে ‘পার্পল ব্লচ’ বা ‘টিপ বার্ণ’ রোগ দেখা দিতে পারে। এর প্রতিকারে ১০ দিন পরপর ২ গ্রাম হারে ‘রিডোমিল গোল্ড’ বা ‘ম্যানকোজেব’ স্প্রে করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ডাল জাতীয় ফসলের লিফস্পট বা রাস্ট দমনে ৭ দিন অন্তর ‘নাটিভো’ বা ‘রোভরাল’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলু ও সরিষার বিশেষ যত্ন
আলুর ক্ষেত্রে বর্তমান আবহাওয়া ‘নাবী ধসা’ (Late Blight) রোগের জন্য অনুকূল। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক ৭-১০ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে। অন্যদিকে, সরিষার ফুল আসার আগে হোয়াইট মোল্ড দমনে ‘ইপ্রোডিয়ন’ এবং ফুল আসার পরে ‘কার্বেন্ডাজিম’ গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
ফলদ বাগান ও গবাদি পশু
কচি গাছ: শৈত্যপ্রবাহ থেকে ছোট ও কচি ফল গাছ রক্ষায় খড় বা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি হালকা সেচ প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পশুপালন: গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ঘর ঠান্ডামুক্ত রাখতে চট বা কালো কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা এবং উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখার কথা বলা হয়েছে।
কৃষি আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে কুয়াশা ও তীব্র শীত অব্যাহত থাকলে ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে আলু ও বোরো বীজতলা নিয়ে কৃষকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সময়মতো এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে শৈত্যপ্রবাহের কারণে সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয় অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।