আজ ২৪ এপ্রিল, বিশ্ব হেয়ারবল সচেতনতা দিবস। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বিড়ালপ্রেমী এবং পশু চিকিৎসকরা এই বিশেষ দিনটি পালন করেন। আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ বিষয় মনে হলেও, ‘হেয়ারবল’ বা বিড়ালের পেটে জমে থাকা লোমের কুণ্ডলী আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটির জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আজ এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সেমিনার ও অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।
হেয়ারবল কী এবং কেন হয়?
বিড়াল অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন প্রাণী। তারা জিহ্বা দিয়ে শরীর চেটে নিজেকে পরিষ্কার রাখে। এই প্রক্রিয়ার সময় তাদের জিহ্বার ছোট ছোট কাঁটার মতো অংশ (Papillae) শরীর থেকে আলগা লোম টেনে নেয় এবং বিড়াল তা গিলে ফেলে। সাধারণত এই লোমগুলো মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন অতিরিক্ত লোম জমা হয়, তখন সেগুলো পাকস্থলীতে কুণ্ডলী পাকিয়ে ‘হেয়ারবল’ তৈরি করে। বিড়াল সাধারণত বমি করে এটি বের করে দেয়, কিন্তু কখনো কখনো এটি অন্ত্রে আটকে গিয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে এসেও অনেক বিড়াল মালিক হেয়ারবল সমস্যাকে অবহেলা করেন। পশু চিকিৎসকরা আজকের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনগুলোতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন:
নিয়মিত গ্রুমিং: প্রতিদিন অন্তত একবার ব্রাশ দিয়ে বিড়ালের শরীর পরিষ্কার করলে আলগা লোম কমে যায়, ফলে পেটে লোম যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
সঠিক ডায়েট: উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বা হেয়ারবল কন্ট্রোল ফর্মুলার খাবার বিড়ালের হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
জলপান: বিড়ালকে পর্যাপ্ত জল পান করালে তার পরিপাকতন্ত্র সচল থাকে।
লক্ষণ পর্যবেক্ষণ: যদি আপনার বিড়াল বারবার বমি করার চেষ্টা করে কিন্তু কিছু বের না হয়, কিংবা তার খাবারে অনীহা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আজকের এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ #HairballAwarenessDay ব্যবহার করে বিড়াল মালিকরা তাদের পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। সচেতনতাই পারে আপনার প্রিয় বিড়ালটিকে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে।