Home আন্তর্জাতিক খবর এখন হাতের মুঠোয়: হোয়াটসঅ্যাপে সংবাদের জোয়ার

খবর এখন হাতের মুঠোয়: হোয়াটসঅ্যাপে সংবাদের জোয়ার

ফরিদুল আলম, ঢাকা 
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ধারায় সংবাদ গ্রহণের অভ্যাসে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, প্রথাগত ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া ফিডের চেয়ে সরাসরি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে খবর পড়ার প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে।
সর্বশেষ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ পাঠক এখন সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের মাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ গ্রহণ করছেন। এই পরিবর্তন নিউজ পোর্টালগুলোর ব্যবসায়িক ও প্রচার কৌশলেও আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
কেন হোয়াটসঅ্যাপে ঝুঁকছে পাঠক?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যালগরিদমের জটিলতা এবং অপ্রাসঙ্গিক কন্টেন্টের ভিড়ে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ খবর পাঠকদের নজরের বাইরে চলে যায়। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং চ্যানেলে পাঠক তার পছন্দের সংবাদমাধ্যমের খবরগুলো সরাসরি এবং ব্যক্তিগতভাবে পান। কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা পাঠকদের এই প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। বিশেষ করে ‘ব্রেকিং নিউজ’ পাওয়ার ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ এখন এক নম্বর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
নিউজ পোর্টালগুলোর নতুন কৌশল
একটা সময় ছিল যখন সংবাদমাধ্যমগুলো কেবল ফেসবুক বা টুইটার (এক্স) থেকে ট্রাফিক পাওয়ার আশায় বসে থাকত। কিন্তু ২০২৬ সালে চিত্রটি ভিন্ন। এখন বড় নিউজ পোর্টাল থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রধান ট্রাফিক ড্রাইভ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলকে বেছে নিয়েছে।
অনেকে তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি যাওয়ার চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের লিঙ্কে ক্লিক করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এর ফলে নিউজ পোর্টালগুলো এখন তাদের আলাদা ‘ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন টিম’ গঠন করছে, যাদের মূল কাজই হলো মেসেজিং অ্যাপের জন্য সংক্ষেপে আকর্ষণীয় নিউজ কার্ড এবং ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা।
ট্রাফিক ও এনগেজমেন্টের নতুন সমীকরণ
প্রকাশকরা দেখছেন যে, সরাসরি মেসেজিং ফিড থেকে আসা পাঠকদের সাইটে থাকার সময় (Average Session Duration) অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা পাঠকদের চেয়ে অনেক বেশি।
কারণ, একজন পাঠক যখন একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে জয়েন করেন, তিনি সেই সংবাদমাধ্যমের কন্টেন্টের প্রতি আগে থেকেই অনুরাগী থাকেন।
তবে এই দ্রুত পরিবর্তনের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া খবর বা অপপ্রচার ছড়ানোর ঝুঁকি রোধে প্ল্যাটফর্মগুলো এখন কড়াকড়ি আরোপ করছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকতা এখন আর কেবল ছাপানো কাগজে বা ব্রাউজারের উইন্ডোতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন পৌঁছে গেছে মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা চ্যাট বক্সে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com