Home স্বাস্থ্য প্রতিদিন একটি আপেল: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কেন এটি জাদুকরী?

প্রতিদিন একটি আপেল: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কেন এটি জাদুকরী?

আপেল
হেলথ ডেস্ক: প্রচলিত সেই প্রবাদটি আমরা সবাই জানি— “প্রতিদিন একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে।” সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবাদটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে সত্য।
নিয়মিত আপেল খেলে রক্তনালীর সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, প্রদাহ কমে এবং ধমনী সচল থাকে, যা সামগ্রিকভাবে হার্টকে সুরক্ষিত রাখে।

আপেলে কী আছে যা হার্টের যত্ন নেয়?

পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, আপেল ফাইবার (আঁশ) এবং বিশেষ কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে:

  • ফ্ল্যাভোনয়েডস: যেমন কুয়ারসেটিন এবং প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন।
  • ফেনোলিক অ্যাসিড: যা কোষের সুরক্ষায় কাজ করে।
  • পটাশিয়াম ও ডায়েটারি ফাইবার: যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

হার্টের সুরক্ষায় আপেলের ৪টি প্রধান ভূমিকা

ইউটিহেলথ হিউস্টনের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ জন হিগিন্স এবং পুষ্টিবিদ ক্যাসান্দ্রা লেপোরের মতে, আপেল চারটি উপায়ে আমাদের হৃদযন্ত্রকে সাহায্য করে:

১. রক্তনালীর শিথিলতা: আপেলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তনালীগুলোকে কিছুটা প্রশস্ত হতে সংকেত দেয়। ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমে। ২. প্রদাহ হ্রাস: এতে থাকা ‘পলিফেনল’ নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ধমনীর ধকল কমিয়ে দেয়। ৩. কোষের সুরক্ষা: শরীরের ক্ষতিকারক ও অস্থিতিশীল অণু থেকে রক্তনালীকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে আপেলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ৪. ধমনীর নমনীয়তা: আপেলের দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ধমনীকে নমনীয় রাখে। এটি দীর্ঘমেয়াদী রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম

প্রতিটি মাঝারি আকারের আপেল থেকে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, পটাশিয়াম রক্তনালীর দেয়ালকে শিথিল করতে সাহায্য করে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং পেশির টান (cramping) থেকে রক্ষা করে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: হার্টের সর্বোচ্চ উপকার পেতে আপেল খোসাসহ খাওয়া ভালো, কারণ খোসাতেই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবারের বড় অংশ থাকে।