Home আন্তর্জাতিক শিপইয়ার্ড থেকে যুক্ত হচ্ছে দানবীয় আল্ট্রা-লার্জ কন্টেইনার ভেসেল

শিপইয়ার্ড থেকে যুক্ত হচ্ছে দানবীয় আল্ট্রা-লার্জ কন্টেইনার ভেসেল

শিপিং ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতে এক ঐতিহাসিক মোড় সৃষ্টি করছে নতুন প্রজন্মের আল্ট্রা-লার্জ কন্টেইনার ভেসেল (ULCV)। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিপইয়ার্ডগুলো থেকে একের পর এক বিশালাকার কন্টেইনার জাহাজ নিয়মিত সরবরাহ শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা নজিরবিহীন গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে শিপিং লাইনগুলোর দেওয়া বিপুল সংখ্যক জাহাজের ক্রয়াদেশ এখন পর্যায়ক্রমে বহরে যুক্ত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি নতুন কাঠামোর ওপর দাঁড় করাচ্ছে।
নতুন সরবরাহকৃত ইউএলসিভিগুলো মূলত ২০,০০০ থেকে ২৪,০০০ টিইইউ সক্ষমতার শ্রেণিতে পড়ছে। প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬০ মিটারেরও বেশি চওড়া এই জলযানগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের বর্তমান বৃহত্তম কাঠামো। সাম্প্রতিক সরবরাহগুলোতে প্রাধান্য পাচ্ছে পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি। অধিকাংশ নতুন জাহাজে স্থাপন করা হচ্ছে এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল ইঞ্জিন কিংবা ভবিষ্যতের জন্য মিথানল-রেডি প্রপালশন সিস্টেম। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (IMO) কঠোর কার্বন নিঃসরণ নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এসব জাহাজ প্রতি একক কন্টেইনার পরিবহনে উল্লেখযোগ্য হারে জ্বালানি খরচ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করছে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম গবেষণা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একের পর এক মেগা-ভেসেল হস্তান্তরের ফলে বৈশ্বিক কন্টেইনার বহরের মোট পরিবহন ক্ষমতা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টিইইউ-এর মাইলফলক ছুঁতে চলেছে। শীর্ষ গ্লোবাল ক্যারিয়ার যেমন এমএসসি , সিএমএ সিজিএম , কসকো , এবং ওওন তাদের বহরের আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণে এসব জাহাজ মোতায়েন করছে। এর ফলে এশিয়া-ইউরোপ এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক করিডোরে ধারণক্ষমতার ব্যাপক স্ফীতি দেখা দিয়েছে। বাড়তি এই সক্ষমতা বৈশ্বিক ফ্রেইট রেটের ওপর সরাসরি নিম্নমুখী প্রভাব ফেলছে, যা আন্তর্জাতিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়তা করলেও ক্যারিয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য অপারেটিং মার্জিন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বন্দর পরিকাঠামো ও ফিডার নেটওয়ার্কের রূপান্তর
দানবীয় এই ভেসেলগুলোর নিয়মিত চলাচল বিশ্বজুড়ে বন্দর অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক কাঠামোগত চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্তত ১৬ মিটারের বেশি ড্রাফট ও মেগা-জাহাজ ধারণের উপযোগী কোয়ে-ক্রেন না থাকলে কোনো বন্দর এই জাহাজ হ্যান্ডলিং করতে পারে না। ফলে রটারডাম, সিঙ্গাপুর কিংবা সাংহাইয়ের মতো প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট হাবগুলোতে কনজেশন এড়াতে লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হচ্ছে। একই সাথে গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে ছোট আঞ্চলিক বন্দরগুলোর যোগাযোগ বাড়াতে মাঝারি আকৃতির আধুনিক ফিডার জাহাজের চাহিদাও বহুগুণে বাড়ছে।