Home পরিবেশ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে সিসিএস প্রযুক্তিতে হাইডেলবার্গ ও হোলসিম

কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে সিসিএস প্রযুক্তিতে হাইডেলবার্গ ও হোলসিম

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বিশ্বজুড়ে সিমেন্ট শিল্পে এক নীরব বিপ্লব শুরু হয়েছে। এই বিপ্লবের মূল হাতিয়ার হলো ‘কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ’ (সিসিএস) প্রযুক্তি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ মেটেরিয়ালস এবং হোলসিম ইতিমধ্যে তাদের বিভিন্ন প্ল্যান্টে এই আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন শুরু করেছে, যা ভারী শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

সিসিএস প্রযুক্তি কী এবং কীভাবে কাজ করে?

কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ বা সিসিএস হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) বায়ুমণ্ডলে মিশে যাওয়ার আগেই সরাসরি সংগ্রহ করা হয়। সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান ধাপ ‘ক্লিংকার’ তৈরির সময় প্রচুর পরিমাণে কার্বন নির্গত হয়।

সিসিএস প্রযুক্তিতে এই নির্গত গ্যাস বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে আলাদা করা হয়। এরপর সংগৃহীত এই কার্বনকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করে পাইপলাইনের মাধ্যমে মাটির গভীরে বা সমুদ্রতলের শিলাস্তরে স্থায়ীভাবে জমা রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই কার্বনকে কংক্রিট তৈরিতে বা রাসায়নিক শিল্পে পুনরায় ব্যবহার করা হয়, যাকে বলা হয় সিসিইউ (Carbon Capture and Utilization)।

হাইডেলবার্গ ও হোলসিমের বড় উদ্যোগ

জার্মানভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ মেটেরিয়ালস নরওয়ের ব্রেভিক-এ বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট সিসিএস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৪ সালের মধ্যে বার্ষিক ৪ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ করা।

অন্যদিকে, হোলসিম ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় একাধিক বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা তাদের উৎপাদনের একটি বিশাল অংশ নেট-জিরো বা কার্বনমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কোম্পানি দুটি মনে করছে, সিমেন্ট শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব রক্ষায় সিসিএস প্রযুক্তি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা।

পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

পরিবেশবিদদের মতে, সিমেন্ট শিল্প বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশের জন্য দায়ী। সিসিএস প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এই নিঃসরণ প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম। যদিও এই প্রযুক্তি স্থাপনে প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কার্বন ট্যাক্স সাশ্রয় করবে এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন সিমেন্ট’ হিসেবে বাজারে বাড়তি গুরুত্ব পাবে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসিএস প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে প্রধান বাধা হলো উচ্চ নির্মাণ ব্যয় এবং সংগৃহীত কার্বন পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) মনে করছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে ভারী শিল্পগুলোতে সিসিএস প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই দুই কোম্পানির উদ্যোগ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সিমেন্ট শিল্পের জন্যও একটি অনুসরণীয় মডেল হতে পারে, যেখানে দ্রুত নগরায়নের ফলে সিমেন্টের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com আপনার মতামত আমাদের জানান ও ফলো করুন।