Home First Lead ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কি তবে নতুন ‘সমঝোতার পথ’?

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কি তবে নতুন ‘সমঝোতার পথ’?

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান

  • কৌশলগত পরিবর্তন: দীর্ঘদিনের তিক্ততা ভুলে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে দিল্লির ইতিবাচক সংকেত।
  • টার্নিং পয়েন্ট: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা ও জানাজায় এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি সম্পর্কের বরফ গলার বড় ইঙ্গিত।
  • জামায়াত ফ্যাক্টর: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ত্যাগের কারণে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা ভারতের কাছে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • প্রধান বাধা: শেখ হাসিনাকে আশ্রয় প্রদান ও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে দুই দেশের আইনি ও রাজনৈতিক অনড় অবস্থান।
  • নির্বাচনী গুরুত্ব: ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে দুই দেশের কূটনৈতিক পুনর্গঠনের চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে দেখছেন মাইকেল কুগেলম্যান।

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, এই তিক্ততা স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। অনলাইন ফরেন পলিসি-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই সিনিয়র ফেলো উল্লেখ করেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্কের জট খোলার একটি নতুন ‘সমঝোতার পথ’ (Modus Vivendi) তৈরি করতে পারে।
দিল্লির নতুন বার্তা ও কূটনীতি
কুগেলম্যান তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, ভারত এখন তার দীর্ঘদিনের একমুখী নীতি থেকে সরে আসছে। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং ঢাকায় জানাজায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি কেবল সৌজন্য নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। কুগেলম্যানের মতে, বিএনপি এখন জামায়াত থেকে দূরে সরে আসায় দিল্লি তাদের সাথে কাজ করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
সংকট যখন মাঠ থেকে ময়দানে
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে সম্পর্কের অবনতি কেবল সচিবালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা গড়িয়েছে ক্রিকেটের মাঠ পর্যন্ত। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা এবং জাতীয় দলের ভারত সফর বাতিলের ঘোষণা দুই দেশের জনমানসের দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। একদিকে বাংলাদেশিদের মাঝে ভারত-বিরোধী সেন্টিমেন্ট, অন্যদিকে ভারতীয়দের মাঝে কট্টরপন্থীদের উত্থান নিয়ে ভীতি—এই দ্বিমুখী সংকট নিরসনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ভারতের প্রত্যাশা
ভারতের নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে। বিশেষ করে তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভারতকে কিছুটা আশাবাদী করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সমঅধিকারভিত্তিক’ সম্পর্কের প্রস্তাবও দিল্লির কাছে একটি বাস্তবসম্মত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 সাহসিকতার পরীক্ষা
পরিশেষে, কুগেলম্যান মনে করেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ঢাকা ও দিল্লির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে তারা বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে এই সুসম্পর্ক নির্ভর করছে দুই দেশের নেতৃত্বের সাহসিকতা এবং জনআবেগকে ছাপিয়ে বাস্তবমুখী কূটনীতি পরিচালনার সক্ষমতার ওপর।