Home বিনোদন গাছের সঙ্গে বিয়ে: ‘মাঙ্গলিক দোষে’ অভিশপ্ত কনের মুক্তির উপায়?

গাছের সঙ্গে বিয়ে: ‘মাঙ্গলিক দোষে’ অভিশপ্ত কনের মুক্তির উপায়?

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ভারতের হিন্দু সমাজে জন্মকুণ্ডলী বা কুষ্ঠির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই বিশ্বাস থেকে জন্ম নিয়েছে এমন এক রীতি, যা আধুনিক যুগেও বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দেয়। তা হলো গাছের সঙ্গে বিয়ে!

বিশেষত যেসব মেয়ের কুষ্ঠিতে ‘মাঙ্গলিক দোষ’ (মঙ্গলগ্রহের অশুভ প্রভাব) থাকে, তাদের মানুষ নয়, প্রথমে বিয়ে দেওয়া হয় এক গাছের সঙ্গে!

কী এই ‘মাঙ্গলিক দোষ’?

হিন্দু জ্যোতিষ মতে, জন্মকালে মঙ্গলগ্রহ যদি নির্দিষ্ট ঘরে অবস্থান করে, তবে সেই ব্যক্তি ‘মাঙ্গলিক’ বলে বিবেচিত হয়। এই দোষ যদি একজন মেয়ের থাকে আর তার স্বামী ‘অমাঙ্গলিক’ হয়, তাহলে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিপদ আসবে বলে বিশ্বাস করা হয় অকাল মৃত্যু, বিচ্ছেদ বা দুঃখ।

গাছের সঙ্গে কেন বিয়ে?

রীতিমতো পূজার আয়োজন করে, পুরোহিত ডেকে মেয়েটিকে একটি গাছের (প্রধানত বট, অশ্বত্থ বা কলা গাছ) সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। গলায় মালা, সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে টিপ—সব কিছু থাকে। গাছকেই প্রতীকী বর হিসেবে মেনে নিয়ে সাত পাক ঘোরা হয়, মন্ত্রপাঠ হয়, এমনকি বিয়ের পর মেয়েটি গাছকে প্রণাম করে আশীর্বাদও নেয়।

এর যুক্তি এমন: এই বিয়েতে ‘মাঙ্গলিক’ দোষ গাছের উপর স্থানান্তরিত হয়। গাছ তো মানুষ নয়, তাই তার ক্ষতি হোক বা মৃত্যু ঘটুক, তাতে আর মানুষের ক্ষতি হয় না। এরপর মেয়েটি ‘শুদ্ধ’ হয়ে প্রকৃত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে করতে পারে।

সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা

ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর কিছু অঞ্চলে এই রীতি এখনও প্রচলিত। গ্রামীণ এলাকায় এ বিশ্বাস এতটাই গেঁথে আছে যে, কেউ কেউ গাছের সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থেকে যান এবং পরবর্তী বিয়ে আর হয় না।

আইন ও আধুনিক প্রতিক্রিয়া

অবশ্য এই রীতি আধুনিক শহরাঞ্চলে তীব্র সমালোচিত। অনেক নারী অধিকারকর্মী এই বিয়েকে অপমানজনক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং অবমাননাকর বলে অভিহিত করেন। তবু কিছু পরিবার আজও এই ‘পূর্বতৈরি নিষ্কৃতি’র পথে হাঁটে, যাতে সমাজের চাপে বিয়ে টেকসই হয়।

ঐতিহ্য না ঠকবাজি?

বিশ্লেষকরা বলেন, এই রীতির মাধ্যমে মেয়েদের ওপর অন্ধবিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা নিজেকে ‘অপবিত্র’ মনে করে। আবার কেউ বলেন, এটি মেয়েকে ভবিষ্যতের দাম্পত্যে নিরাপদ করতে এক প্রতীকী শুদ্ধিকরণ।

তবে একথা ঠিক, গাছের সঙ্গে এই ‘পূর্ববিয়ে’ আধুনিক যুগেও আমাদের সমাজে কুসংস্কারের গভীর শিকড়ের প্রমাণ দেয়।