বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর টেকসই উন্নয়ন ও চসিকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কর ফাঁকি ও ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ না করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্যাক্সের ব্যাপারে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ের সভাকক্ষে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এই নির্দেশনা দেন। সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামালসহ রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় এখনো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। চসিকের পর্যালোচনা সভায় উঠে আসে যে, বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব এখনও আদায়ের বাইরে রয়ে গেছে। এর পেছনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি, কর ফাঁকির প্রবণতা এবং চসিকের নিজস্ব লজিস্টিক ও জনবল সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্টনমেন্ট ও ইপিজেড এলাকায় কিছু আইনি জটিলতার কারণেও কর আদায়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সভায় সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কর আদায়ের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আলোচনা হয়। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, উদাহরণস্বরূপ রেলওয়ের কাছে চসিকের প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও তাদের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় তা আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে জমতে জমতে রেলওয়ের কাছে চসিকের মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি টাকায়।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই বিশাল অংকের বকেয়া আদায়ে গতি আনতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বেশ কিছু কৌশলগত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশনা দিয়েছেন:
১. সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে অবিলম্বে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে ডিও লেটার প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে।
২. নগরীর বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফাইভ স্টার হোটেল, মার্কেট, গার্মেন্টস কারখানা এবং কন্টেইনার ডিপোগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন (রি-অ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে।
৩. যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ করছে না, তাদের তালিকা তৈরি করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রতি মাসের শুরুতে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন করে মেয়রকে অগ্রগতি অবহিত করতে হবে।
এছাড়া জনবল সংকট নিরসনে পদায়ন, ইপিজেড এলাকার করযোগ্যতা যাচাই, কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা এবং কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরবাসীর করের টাকাই নগর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।” চসিকের আর্থিক ভিত শক্ত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ###