Home স্বাস্থ্য গরমে ডিহাইড্রেশনের নীরব থাবা: ডায়াবেটিসে বাড়তি ঝুঁকি

গরমে ডিহাইড্রেশনের নীরব থাবা: ডায়াবেটিসে বাড়তি ঝুঁকি

হেলথ ডেস্ক:
গ্রীষ্মের প্রখর তাপে চারদিকের পরিবেশ যেন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এর সাথে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীর থেকে অবিরাম ঘাম ঝরছে। আপাতদৃষ্টিতে ঘাম হওয়াকে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মনে হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কেবল জলই বের হয় না, সেই সাথে হারিয়ে যায় প্রয়োজনীয় লবণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
এই ঘাটতি পূরণে অবহেলা করলে শরীর দ্রুত জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারে। আর গরমের এই সময়ে পর্যাপ্ত জল পান না করার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে রক্তের শর্করার মাত্রার ওপর।
ডিহাইড্রেশন ও ডায়াবেটিসের বিপজ্জনক সংযোগ
তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শরীর যখন ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়, তখন মস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগ থেকে অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) নিঃসৃত হতে শুরু করে।
এই হরমোনটি শরীরকে জল ধরে রাখার জন্য বিশেষ সংকেত পাঠায়, যার ফলে মূত্র উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আর এখানেই বাড়ে মূল বিপদ। মূত্রের পরিমাণ কমে গেলে শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজ আর বাইরে বের হতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার দ্রুত অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এই পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গরমের দিনগুলোতে দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৩.৫ লিটার জল পান করা বাধ্যতামূলক।
ডিহাইড্রেশনের ৫টি অজানা উপসর্গ: যা এড়িয়ে যাওয়া ভুল হবে
অনেকেই মনে করেন কেবল তৃষ্ণা পাওয়া বা মুখ শুকিয়ে যাওয়াই জলশূন্যতার লক্ষণ। তবে এর বাইরেও কিছু নীরব উপসর্গ রয়েছে যা শরীরের জলের ঘাটতিকে নির্দেশ করে:
হাত-পায়ে ঘন ঘন টান লাগা শরীরে জলের অভাব ঘটলে মাংসপেশিগুলো তার প্রয়োজনীয় রসদ পায় না। এর ফলে হাঁটাচলা, দৌড়ানো কিংবা সামান্য ওঠাবসার সময়েও হঠাৎ পেশিতে তীব্র টান বা ক্র্যাম্প ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মিষ্টি বা নোনতা খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা দীর্ঘদিন শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। লিভার সাধারণত জলের সহায়তায় গ্লাইকোজেন তৈরি করে শরীরে শক্তির জোগান দেয়। এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হলে শরীর শক্তির ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত খাবারের সংকেত পাঠায়। ফলে হঠাৎ করেই চকলেট, মিষ্টি বা নোনতা খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
ক্রমাগত মাথা যন্ত্রণা ও মাইগ্রেন মাথাব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকলেও ডিহাইড্রেশন এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক। শরীরে তরলের মাত্রা কমে গেলে মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই ঘন ঘন মাথা যন্ত্রণায় ভুগলে অবহেলা না করে জল পানের পরিমাণ বাড়ানো উচিত।
ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও ঠোঁট ফাটা গরমের দিনে এমনিতেই ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। তার ওপর শরীরে জলের অভাব হলে ত্বক চরমভাবে শুকিয়ে যায় এবং ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। ত্বক যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় কুঁচকে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীর জরুরি ভিত্তিতে জল চাইছে।
প্রস্রাবের রং পরিবর্তন ও জ্বালাপোড়া শরীরে জলের ঘাটতি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং লক্ষ করা। প্রস্রাবের রং যদি হঠাৎ গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তবে তা ডিহাইড্রেশনের স্পষ্ট লক্ষণ। এ ছাড়া জলের অভাবে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রস্রাব করার সময় অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
গ্রীষ্মের এই বৈরী আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত বিরতিতে জল পান করুন এবং শরীরকে সুস্থ রাখুন।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com