Home First Lead ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক

ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে আলোচনা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় গুলশানের বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই বৈঠকে যুক্ত হন তিনি। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শুল্কনীতি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (US Trade Representative) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন:

ব্রেন্ডান লিঞ্চ: সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া)।

এমিলি অ্যাশবি: পরিচালক (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া)।

স্যাম মুলোপোলোস: ইউএসটিআর চিফ অব স্টাফ।

বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির

আলোচনার কেন্দ্রে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর সম্ভাব্য শুল্ক কাঠামো। বিশেষ করে, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক শুল্ক সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়।

মার্কিন প্রতিনিধিরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক আলোচনার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চান।

তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

আজকের এই বৈঠকটি কেবল একটি বাণিজ্যিক আলোচনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

১. আন্তর্জাতিক বৈধতা ও গুরুত্বের স্বীকৃতি: দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরা তারেক রহমানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগ প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বিএনপিকে একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। নির্বাচনের আগে এই বৈঠক তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি বড় ‘ডিপ্লোম্যাটিক বুস্ট’।

২. অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতার বার্তা: ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে শুল্কহার নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে এই আলোচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তারেক রহমান সরকারের নেগোসিয়েশনে সমর্থন দিয়ে বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দিলেন যে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক নীতিতে বড় কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা।

৩. মার্কিন নীতির পরিবর্তন: বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির এই সরাসরি আলোচনা নির্দেশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের সকল প্রধান রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। শুধু সরকারের সাথে নয়, প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথেও তারা আগাম অর্থনৈতিক রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা সেরে রাখছে।

৪. নির্বাচনী আবহে ইতিবাচক ইমেজ: আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এমন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে বিএনপির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরবে।

এই বৈঠকের মাধ্যমে তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নন, বরং একজন রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভঙ্গিতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটি আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।